কমিশনারদের অন্তর্কলহ ফাঁস হতেই জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবি বিরোধীদের, কী সাফাই দিল নির্বাচন কমিশন?
সিইসির পদত্যাগের দাবির মুখেই মুখ খুলল কমিশন! জানুন প্রেস বিবৃতিতে ঠিক কী সাফাই দিলেন জ্ঞানেশ কুমাররা!
Truth of Bengal: সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের অন্তর্তদন্তে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের বেনজির গৃহযুদ্ধ প্রকাশ্যে আসতেই সোমবার জাতীয় রাজনীতিতে বিস্ফোরণ ঘটে গিয়েছে। ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাকি দুই কমিশনারের আপত্তির খবর সামনে আসতেই বিরোধীরা সম্মিলিত সুরে নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ, বরখাস্ত এবং বাংলা ও বিহার-সহ একাধিক রাজ্যের সম্প্রতি আয়োজিত নির্বাচন বাতিলের প্রবল দাবির মুখে পড়ে অবশেষে নীরবতা ভেঙে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করল নির্বাচন কমিশন।
বুধবার ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ভোটার তালিকা সংশোধন, স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (SIR) এবং ফর্ম ৬-এ বাধ্যতামূলক বদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাকি দুই কমিশনার সুখবীর সিংহ সাঁধু এবং বিবেক জোশীকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। এই খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি কড়া হুঙ্কার ছেড়ে বলেন, “ভোটচুরি ভারতের কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও সংবিধানের ওপর সরাসরি আক্রমণ। নির্বাচন কমিশনাররা জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেশদ্রোহিতা করেছেন। আপনাদের আমরা ধরবই, রেহাই মিলবে না।” অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি তোলেন, “মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অবিলম্বে বরখাস্ত করে আদালতের তত্ত্বাবধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা উচিত।”
চারিদিক থেকে আসা এই বেনজির আক্রমণ ও আস্থার সংকটের মুখে পড়ে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে তড়িঘড়ি একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কমিশন তাদের লিখিত সাফাইতে জানিয়েছে, “ভারত নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাজ করে। যে কোনও স্বাধীন সংস্থায় একাধিক সদস্যের মধ্যে ভিন্নমত থাকাটা মোটেও অস্বাভাবিক কিছু নয়। বস্তুত, কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে এই ধরনের দীর্ঘ আলোচনা, তর্ক ও মতামত প্রকাশ কমিশনের কাজেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
কমিশনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে নেওয়া অজস্র সিদ্ধান্তের মধ্যে কয়েকটি অভ্যন্তরীণ নোট বা পর্যবেক্ষণকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে পুরো ঘটনাটির একটি একপেশে দিক তুলে ধরা হয়। এই সময়কালে প্রায় ৪০টি নতুন যুগান্তকারী উদ্যোগ ও নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করেছে। কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য, সর্বসম্মত বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সদস্যদের ভিন্নমত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও মজবুত ও স্বচ্ছ করে তোলে। তবে কমিশনের এই ড্যামেজ কন্ট্রোল বিরোধীদের প্রতিবাদের আগুন কতখানি নেভাতে পারে, এখন সেটাই দেখার।






