রাজ্যের খবর

স্বামীর মৃত্যুর ৩ মাসেই পরপুরুষ ঘরে! চন্দ্রকোনায় বধূ ও প্রেমিক ধরা পড়তেই ভয়ঙ্কর কাণ্ড

ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল স্বামীর ঝুলন্ত দেহ! ৩ মাসের মাথায় প্রেমিককে সোজা ঘরে ডেকে লঙ্কাকাণ্ড

Truth of Bengal: স্বামী বিয়োগের পর পেরিয়েছে মাত্র তিন-তিনটি মাস। কিন্তু সেই শোকের কালো মেঘ কাটার আগেই পরপুরুষের সঙ্গে প্রেমে মশগুল হয়ে পড়ার চরম খেসারত দিতে হল এক তরুণী বধূকে। মেদিনীপুরের মাটিতে ঘটল এক মধ্যযুগীয় নীতি পুলিশের নজিরবিহীন বর্বরতা! নির্জন বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে প্রেমিককে ঘরে ডেকে এনেছিলেন ওই বধূ। কিন্তু স্থানীয় প্রতিবেশী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের চোখে তা ধরা পড়ে যেতেই ঘটে গেল ভয়ঙ্কর কেলেঙ্কারি। ক্ষুব্ধ উত্তেজিত জনতা প্রেমিক ও গৃহবধূকে ধরে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে একটি শক্ত খুঁটিতে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে! এরপর তাঁদের মুখে চুন মাখিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা পুরসভার অন্তর্গত গোঁসাই বাজার জহরপুকুর এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মাস তিনেক আগেই ওই গৃহবধূর স্বামীর ঝুলন্ত রহস্যজনক দেহ উদ্ধার হয়েছিল ঘর থেকে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে তদন্ত চলায় বধূ তাঁর শ্বশুরবাড়িতেই বাস করছিলেন। তবে এরই মাঝে এলাকার এক স্থানীয় যুবকের সঙ্গে ওই তরুণীর গভীর পরকীয়ার সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল চারিদিকে। গত কাল বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে নিজের প্রেমিককে গোপনে ঘরের ভেতরে ডেকে আনেন ওই তরুণী। দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। এরপর স্থানীয়রা একজোট হয়ে ঘরে গিয়ে তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলে।

মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে সেই খবর। ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। নিজেদের হাতে আইন তুলে নিয়ে ওই তরুণী ও তাঁর প্রেমিককে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে আনা হয়। রাস্তার মোড়ে একটি প্রকাণ্ড খুঁটিতে তাঁদের শক্ত করে বেঁধে রাখা হয় এবং দু’জনের মুখে চুন মাখিয়ে চূড়ান্ত নিগ্রহ ও অপমান করা হয়।

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তড়িঘড়ি বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ। উগ্র জনতার হাত থেকে দু’জনকে রক্তাক্ত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নিরাপদে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সম্পূর্ণ ঘটনাটি খতিয়ে দেখার এবং তদন্ত করার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে যেভাবে প্রকাশ্যে এক নারী ও পুরুষকে চরম অপমান ও হেনস্থা করা হল, সেই সভ্যতাবহির্ভূত ‘নীতি পুলিশি’ ও গণপিটুনির মানসিকতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন মানবাধিকার কর্মী ও সমাজের সচেতন মানুষ।

Related Articles