দেশ

যন্তর মন্তরে আন্দোলনের মুখে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের! প্রশ্নফাঁসের দ্রুত বিচারে তৈরি হচ্ছে বিশেষ আদালত

এর আগে গত মঙ্গলবার এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠকেও প্রশ্নফাঁস বিতর্ক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

Truth of Bengal: দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্কের মাঝে পড়ুয়া ও যুবসমাজের জন্য বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ‘ফাস্ট ট্র্যাক আদালত’ (Fast-Track Court) গঠন করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুবদের টানা বিক্ষোভের আবহেই বৃহস্পতিবার এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে লেখেন, প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আধিকারিকদের ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠকেও প্রশ্নফাঁস বিতর্ক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এই ধরণের ঘটনাকে ‘মহাপাপ’ আখ্যা দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, প্রশ্নফাঁস রুখে স্বচ্ছতা বজায় রাখা গোটা দেশের দায়িত্ব। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বৈঠকের এই অভ্যন্তরীণ বার্তার কথা সংবাদমাধ্যমকে জানালেও, প্রধানমন্ত্রী নিজে কেন প্রকাশ্যে এই বিষয়ে কিছু বলছেন না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল বিরোধী ও আন্দোলনকারীরা। অবশেষে এক্স বার্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদী সেই বিতর্কের ইতি টানলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে দেশের তরুণ প্রজন্মের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মোদি লেখেন, দেশের যুবসমাজের কল্যাণ এবং তাঁদের সুন্দর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করাই সরকারের কাছে সবচেয়ে অগ্রাধিকারের বিষয়। এর চেয়ে বড় আর কিছুই হতে পারে না। তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করা হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকার সবসময়ই শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করে এসেছে এবং ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পথেই এক বড় পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য, নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার একাধিক অব্যবস্থার প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। তাঁদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কাতারে কাতারে ছাত্র-যুব রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের অন্যতম মূল দাবি হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। এই রকম একটি উত্তপ্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Articles