দেশ

সংসদে আলাদা দলের স্বীকৃতি পেল NCPI! সুদীপ-কাকলিদের সর্বদল বৈঠকে ডাক কেন্দ্রের

রিজিজুর একটা চিঠিতেই সব পরিষ্কার! দিদির হাত ছেড়ে স্পিকারের ঘরে গিয়ে কী ম্যাজিক করলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়?

Truth of Bengal: ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা সংসদের হাই-ভোল্টেজ বাদল অধিবেশনের ঠিক দু’দিন আগে দেশের জাতীয় রাজনীতিতে ঘটে গেল এক ঐতিহাসিক মহাবিপ্লব। অবশেষে লোকসভায় পৃথক রাজনৈতিক দল হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়ে গেল উত্তর-পূর্ব ভারতের একদা অনামী দল ‘এনসিপিআই’ (NCPI)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আসা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের হাত ধরেই এবার ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। শনিবার কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সরাসরি এনসিপিআই-কে চিঠি লিখে রবিবারের সর্বদল বৈঠকে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন। আর এই চিঠির মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, লোকসভায় দলত্যাগীদের নতুন এই মঞ্চকে পৃথক দলের মর্যাদা দিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার।

কিরেণ রিজিজুর চিঠিতেই সিলমোহর, লোকসভায় আলাদা আসন

আগামী ১৯ জুলাই নতুন সংসদ ভবনের অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ের কমিটি রুমে ডাকা হয়েছে এই বিশেষ সর্বদল বৈঠক। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু তাঁর চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, মোট ১৯ জন তৃণমূল সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে তাঁদের বৈঠক এবং পৃথক দল হিসেবে স্বীকৃতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু স্বীকৃতিই নয়, লোকসভায় অধিবেশন চলাকালীন এই ১৯ জন সাংসদের বসার জন্য ট্রেজারি বেঞ্চের দিকে আলাদা আসনও সংরক্ষিত করা হয়েছে বলে সংসদীয় সূত্রের খবর।

এনডিএ-র বৃহত্তম শরিক দল হয়ে উঠলেন সুদীপরা!

চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, নতুন এনসিপিআই দলের সংসদীয় দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক (Chief Whip) হচ্ছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। মজার বিষয় হল, আগে তৃণমূলে থাকাকালীনও এই দু’জন একই দায়িত্ব পালন করতেন। অন্যদিকে, এই নতুন দলের উপ-দলনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন বীরভূমের চারবারের হেভিওয়েট সাংসদ শতাব্দী রায়। কিরেণ রিজিজু তাঁর চিঠিতে এই সব পদের আইনি মান্যতা দিয়েছেন।

তৃণমূল ছেড়ে বেরোনোর পরপরই দিল্লিতে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে সুদীপরা আবেদন করেছিলেন যে, তাঁরা এনডিএ (NDA) জোটের শরিক হতে চান এবং লোকসভায় যাতে তাঁদের শরিক দলের পাশেই বসার জায়গা দেওয়া হয়। তাঁদের এই অন্তর্ভুক্তির ফলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট সংসদে তাদের বৃহত্তম শরিক দলটিকে পেয়ে গেল। কারণ, এনডিএ জোটের আর কোনো আঞ্চলিক শরিকেরই লোকসভায় এতজন সাংসদ সংখ্যা নেই। শনিবার কিরেণ রিজিজুর চিঠির পর তৃণমূল শিবিরে যেমন বড় ধাক্কা লেগেছে, তেমনই খুশির হাওয়া এনসিপিআই শিবিরে। বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই এই নতুন সমীকরণকে ঘিরে লোকসভা উত্তাল হওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে।

Related Articles