“কারও নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, নির্বাচন কমিশন নয়”: সুপ্রিম কোর্ট
নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় কারও নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে
Truth of Bengal: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও ব্যক্তির নাম বাদ পড়লেই তাঁর নাগরিকত্ব চলে যায় না। শুক্রবার প্রসেনজিৎ বসুর দায়ের করা একটি মামলার শুনানিতে এমনই মৌখিক পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট।প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। বিহারের এসআইআর সংক্রান্ত পূর্ববর্তী রায়ের প্রসঙ্গ তুলে বিচারপতি বাগচী জানান, কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নির্ধারণ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলে এবং সেই কারণে ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হলে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে পাঠানো উচিত। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় কারও নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্বের মর্যাদা বাতিল হয়ে যায় না।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার পর যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের আবেদন শুনতে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। আদালতে জানানো হয়, এই ট্রাইব্যুনালগুলিতে প্রায় ৩৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩৮ হাজার আবেদনের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ আবেদনকারীর নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আপিল প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেই সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়। আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শংকরনারায়ণ জানান, রাজ্যে মোট ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল তৈরি করা হয়েছিল। তবে ইতিমধ্যেই দুই প্রাক্তন বিচারপতি সেই দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। আদালতে আরও অভিযোগ করা হয়, আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ব্যক্তিরা অন্নপূর্ণা যোজনা-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। যদিও যাঁরা ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন, তাঁদের সরকারি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
গোপাল শংকরনারায়ণ আরও দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ব্যক্তিদের জাতিগত শংসাপত্রও দেওয়া হচ্ছে না। এই প্রসঙ্গেই বিচারপতি বাগচী বলেন, ভোটার তালিকা এবং নাগরিকত্ব—দুটি সম্পূর্ণ পৃথক বিষয়। বিচারপতি বাগচীর পর্যবেক্ষণ, সংবিধানের ৯, ১০, ১১ ও ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কোনও সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ নয়। কমিশনের ক্ষমতা ভোটার তালিকা পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তালিকায় কোনও ব্যক্তির নাম না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলেও তাতে তাঁর নাগরিকত্ব বিলুপ্ত হয় না। আবেদনকারীদের আইনজীবী আদালতে আর্জি জানান, কোনও ব্যক্তির বৈধ পাসপোর্ট থাকলে তাঁর ক্ষেত্রে দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। শুনানি শেষে এই মামলাটিকে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া অন্যান্য মামলার সঙ্গে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।



