“এদের মাথায় ডিম ছুড়ুন, অপরাধ বেড়েছে এদের জন্যই!” বুদ্ধিজীবী ও বামেদের আক্রমণ দিলীপের
প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু কি সত্যিই আত্মরক্ষার্থে পুলিশের গুলিতে, নাকি কোনও বড় সত্য চাপা দিতেই তাকে বলি দেওয়া হল
Truth of Bengal: বারুইপুর এনকাউন্টার ঘিরে রাজ্যজুড়ে তুমুল আলোচনা। অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করছেন বহু মানুষ। অনেকের মতে, এমন কড়া পদক্ষেপই অপরাধীদের কাছে বার্তা দেবে। তবে একইসঙ্গে সমাজের একাংশ এনকাউন্টারের যুক্তি ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু কি সত্যিই আত্মরক্ষার্থে পুলিশের গুলিতে, নাকি কোনও বড় সত্য চাপা দিতেই তাকে বলি দেওয়া হল—এই প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। এই তালিকায় রয়েছেন বর্ষীয়ান বাম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং কয়েকজন বুদ্ধিজীবীও। তাঁদের মন্তব্য নিয়েই এবার তীব্র আক্রমণ শানালেন দিলীপ ঘোষ।
কলকাতায় থাকলে নিয়ম করে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে যান দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সেখানেই বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়ে বিরোধী ও বুদ্ধিজীবী মহলের প্রশ্নের প্রসঙ্গ উঠতেই চাঁচাছোলা ভাষায় জবাব দেন তিনি। দিলীপ বলেন, “এরা আসলে বুদ্ধিজীবী নামে সমাজবিরোধী। অপরাধী সাজা পেলেও এরা আন্দোলন শুরু করে। মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি।” এরপর আরও একধাপ এগিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “অপরাধ বেড়েছে কমিউনিস্ট ও বুদ্ধিজীবীদের জন্য। এদের মাথায় ডিম ছুড়ুন।” দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এর আগে একাধিকবার ডিম ছোড়ার রাজনীতির বিরোধিতা করে বলেছেন, “এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়।”
উল্লেখ্য, বারুইপুর-কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর দ্রুত পদক্ষেপ করে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ৬ সদস্যের সিট গঠন করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় চার অভিযুক্তকে। মঙ্গলবার রাতে ঘটনার পুনর্নিমাণের সময় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশের দাবি, প্রভাস অস্ত্র কেড়ে পালানোর চেষ্টা করায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে হয়। এই ঘটনায় প্রভাসের মা ও স্ত্রীও বলেন, “অপরাধ করেছে, শাস্তি পেয়েছে।” কামদুনি ও হাঁসখালির নির্যাতিতার পরিবার-পরিজনেরাও এনকাউন্টারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে সমাজের একাংশের প্রশ্ন, বিচার কি আদালতে হওয়া উচিত ছিল না? এনকাউন্টারের আড়ালে কাউকে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলছেন তাঁরা।






