কলকাতা

বড়দিনের কেক কি আদৌ নিরাপদ? উৎসবের মরশুমে শহরের বিভিন্ন বেকারিতে হানা পুরসভার

গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ভবনে কলকাতা এবং সংলগ্ন দুই জেলার সমস্ত বেকারি ও কেক প্রস্তুতকারকদের তলব করা হয়।

Truth Of Bengal: ২৫ ডিসেম্বর মানেই কেক। বড়দিনের উদ্‌যাপনে যার গুরুত্ব আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু উৎসবের আনন্দে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে যে কেক বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন, তার গুণমান আদৌ নিরাপদ কি না, তা নিয়েই এবার সতর্ক কলকাতা পুরসভা। কেক নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারির পর শহরজুড়ে কড়া নজরদারি শুরু করেছে পুরসভার ফুড টেস্টিং বিভাগ।

গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ভবনে কলকাতা এবং সংলগ্ন দুই জেলার সমস্ত বেকারি ও কেক প্রস্তুতকারকদের তলব করা হয়। পুরসভার ফুড টেস্টিং বিভাগের এক আধিকারিক জানান, পার্ক স্ট্রিট ও নিউ মার্কেটের ঐতিহ্যবাহী কেকশপ ছাড়াও এই মরশুমে শহরের প্রায় সব নামী-দামি বেকারি ও কেক উৎপাদকরা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, কেকের মেয়াদ বাড়াতে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। একইভাবে কেক তৈরিতে অতিরিক্ত কৃত্রিম রং ব্যবহারও বিপজ্জনক। তাই নির্ধারিত খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে কেক প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বেকারি মালিকদের।

পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই শহরের একাধিক কেকশপ ও বেকারি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই নমুনাগুলি পুরসভার ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কেক তৈরির প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে ফুড ইন্সপেক্টররা বিভিন্ন বেকারিতে আচমকা পরিদর্শনও শুরু করেছেন।

কলকাতা থেকে যেসব কেক জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে বা বাইরের জেলা থেকে কলকাতায় ঢুকছে, সেগুলিও ধাপে ধাপে পরীক্ষা করা হবে। শুধু কেক নয়, বড়দিন থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহরের সমস্ত হোটেল ও রেস্তরাঁর খাবার পরীক্ষা চলবে। একইসঙ্গে ছাদ রেস্তরাঁগুলির সমীক্ষায় যেসব বেনিয়ম ধরা পড়েছে, সেগুলির বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভা।