রাজ্যের খবর

“অন্তত কর্মীদের কথা ভেবে ঘরে ফিরুন”, সুর নরম করে বিদ্রোহীদের বার্তা মমতার!

দলীয় প্রতীক বাঁচানোর শেষ চেষ্টা! ফেসবুক লাইভে এসে বেইমানদের কেন ‘ঘরে ফেরার’ আকুতি তৃণমূলনেত্রীর?

Truth of Bengal: বুধবার বিকেলে বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে কলকাতার রাজপথে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর মিছিলে ব্যাপক ধুন্ধুমার বাধে। সেখানে পুলিশের লাঠিচার্জ এবং বিজেপির আক্রমণের বিরুদ্ধে সরব হতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছিলেন, “যাঁরা দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন, তাঁদের জন্যই আজ সাধারণ কর্মীদের ওপর অত্যাচার বেড়েছে। এই বেইমানদের বাংলার মানুষ কোনওদিন ক্ষমা করবে না। এরা এখন বিজেপির দোসর হয়ে গিয়েছে।”

কিন্তু এই ঝাঁঝালো বক্তব্যের ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই, বুধবার সন্ধ্যায় সম্পূর্ণ ভোলবদল করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে অত্যন্ত নরম সুরে বিদ্রোহীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এখনও সময় আছে, অন্তত ওই সাধারণ কর্মীদের কথা ভেবে আপনারা নিজেদের পুরনো ঘরে ফিরে আসুন। যাঁরা আপনাদের জেতানোর জন্য রক্ত দিয়েছেন, তাঁদের কথা ভাবুন। কোনও বিভ্রান্তিতে পা দেবেন না। যদি কোনও ক্ষোভ থাকে, দরকারে পরিবারে এসে পরিবারকে প্রশ্ন করুন। কিন্তু দয়া করে মাঝরাস্তায় থাকবেন না।”

“সরাসরি বিজেপির কোলে দুলুন, নয়তো আমাদের সঙ্গে থাকুন”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কাকলি ঘোষ দস্তিদার কিংবা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই যেভাবে সমান্তরাল এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী তৈরি করেছেন, তাতেই চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন মমতা। দলের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে যখন আইনি লড়াই চলছে, তখন বিদ্রোহীদের এই অবস্থান মমতার সাধের ঘাসফুল প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফেসবুক লাইভে সেই আশঙ্কাই প্রকাশ করে মমতা বলেন, “এত ছলনা কেন? হয় সরাসরি বিজেপির কোলে গিয়ে দুলুন, না হয় আমাদের সঙ্গে থেকে তৃণমূল করুন। মাঝগঙ্গায় গেলে এপারও যাবে, ওপারও যাবে। নদীর স্রোতকে কখনও আটকে রাখা যায় না।”

অস্তিত্বের সংকটে কালীঘাট, গুটিকয়েক বিশ্বস্তকে নিয়ে কতটা লড়বেন মমতা?

বর্তমানে ছাব্বিশের বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের দল এখন বহু খণ্ডে বিভক্ত। দলের সিংহভাগ বিধায়ক ও সাংসদ ইতিমধ্যেই দল ছেড়েছেন কিংবা নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছেন। হাতে গোনা কয়েকজন আস্থাভাজন ছাড়া কালীঘাটের অন্দরে এখন শ্মশানের নীরবতা। এর ওপর ইডি কর্তৃক দলীয় তহবিল ফ্রিজ হওয়া এবং বারুইপুর কাণ্ডে পুলিশের এনকাউন্টার নীতি আমজনতার সমর্থন পাওয়ায় আরও কোণঠাসা তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে বিদ্রোহীদের ঘরে ফেরার জন্য মমতার এই আকুল আবেদন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দল ও প্রতীক বাঁচানোর এই শেষ কামড় কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।

Related Articles