রাম মন্দিরের উদ্বোধনে ১২৪ কোটি খরচ! খোদ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মহা-দুর্নীতির পর্দাফাঁস
বিজ্ঞাপনেই ওড়ানো হয়েছে ৫০ কোটি টাকা! রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার বিপুল খরচের বিল দেখে চোখ কপালে তদন্তকারীদের
Truth of Bengal: অযোধ্যার রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) উদ্বোধন এবং রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার সেই ঐতিহাসিক মেগা অনুষ্ঠান এবার উত্তরপ্রদেশ সরকারের তৈরি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT)-এর রাডারে! ৩,৫০০ কোটি টাকার নগদ প্রণামী ও সোনা-রুপো চুরির কেলেঙ্কারির পর এবার রামলালার মন্দিরের ১২৪ কোটি টাকার বিপুল খরচের হিসেব খতিয়ে দেখতে কোমর বেঁধে নামল সিট। ২০২৪ সালের মন্দিরের উদ্বোধন, ২০২৫ সালের মহাকুম্ভ এবং ধ্বজারোহণ অনুষ্ঠানের সমস্ত অডিট রিপোর্ট, পেমেন্ট ভাউচার ও বিল বাজেয়াপ্ত করে শুরু হয়েছে ম্যারাথন তদন্ত।
২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে মহাসমারোহে পালিত হয়েছিল অযোধ্যার রাম মন্দিরের উদ্বোধন এবং রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা। দেশ-বিদেশের অন্তত ৮ হাজার হেভিওয়েট অতিথি সেই রাজকীয় অনুষ্ঠানের সাক্ষী ছিলেন। কিন্তু এবার সেই জাঁকজমকপূর্ণ উৎসবের খরচের খতিয়ান নিয়েই বড়সড় দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তৈরি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। সিট সূত্রে খবর, গত দু’বছরের রাম মন্দিরের আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আতসকাচের নিচে রয়েছে মূলত তিনটি বড় অনুষ্ঠান, ২০২৪-এর মন্দিরের উদ্বোধন, ২০২৫-এর প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভের আয়োজন এবং মন্দিরের ধ্বজারোহণ অনুষ্ঠান।
হিসাব অনুযায়ী, চম্পত রাইয়ের নেতৃত্বাধীন ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ শুধুমাত্র মন্দির উদ্বোধনের দিনেই অন্তত ১১৩ কোটি টাকা খরচ করেছিল। যার মধ্যে কেবল খবরের কাগজ ও টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের পিছনেই ঢালা হয়েছিল ৫০ কোটি টাকা! এছাড়া পুজোর আচারে ১ কোটিরও বেশি এবং সাজসজ্জা, আলো ও প্রসাদ বিতরণের নামে কোটি কোটি টাকার পেমেন্ট ভাউচার কাটা হয়েছে। এমনকি ধ্বজারোহণ অনুষ্ঠানেও ১০ কোটি টাকার বেশি খরচ দেখানো হয়েছে, যার সত্যতা এখন খতিয়ে দেখছে সিট।
প্রণামী চুরির এফআইআর হতেই গ্রেফতার ৮ ভিএইচপি সদস্য, ট্রাস্টের প্রাক্তন প্রধান চম্পত রাইকে জেরা?
এই মেগা খরচের তদন্তের ঠিক আগেই রাম মন্দিরের প্রণামী বাক্স থেকে নগদ টাকা ও গয়না গায়েব হওয়ার বিতর্কে তোলপাড় হয়েছিল গোটা দেশ। সিটের জমা দেওয়া প্রাথমিক রিপোর্টে জানা যায়, রাম মন্দিরে নগদ প্রণামী বাবদ জমা পড়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি ধনরাশি। কিন্তু সেই টাকার একটা বড় অংশের কোনও বৈধ অডিট বা ব্যাঙ্কিং হদিস মিলছে না! তদন্তে উঠে আসে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) কিছু প্রভাবশালী সদস্যই এই লুটপাটের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের এফআইআর-এর ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই চরম অপমানের জেরে ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। আর তাঁর পদত্যাগের পরই ট্রাস্টের ভেতরের ১২৪ কোটির এই বিশাল ব্যয়ের ফাইল খোলার সিদ্ধান্ত নেয় সিট।
অডিট রিপোর্ট ও বিল খতিয়ে দেখছে যোগী সরকারের বিশেষ দল
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, ভিন রাজ্য ও বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা থেকে আসা কোটি কোটি টাকার যে সমস্ত বিল ট্রাস্টের ফান্ড থেকে মেটানো হয়েছিল, তার অনেকগুলিরই কোনও বাস্তব অস্তিত্ব নেই। ভুয়ো ভাউচার বানিয়ে হিন্দু সনাতনীদের আবেগের টাকা তছরুপ করা হয়েছে কি না, তা জানতে ট্রাস্টের বর্তমান কর্তাদেরও বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে। লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের আগে রাম মন্দিরের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন কোটি কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্ত শুরু হওয়ায় স্বভাবতই অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। সিটের চূড়ান্ত রিপোর্টে চম্পত রাই বা ভিএইচপি-র শীর্ষ নেতাদের নাম জড়ায় কি না, এখন সেটাই দেখার।






