ডিজে বাজানোর মন্তব্যে আদালতে ধাক্কা অভিষেকের! সই-জাল মামলায় কী জানাল হাইকোর্ট?
ডিজে মন্তব্যে চরম বিপাকে অভিষেক, এবার কি দিতে হবে কণ্ঠস্বরের নমুনা?
Truth of Bengal: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে গত মে মাসে বাগুইআটির এক জনসভায় দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক বিস্ফোরক ও বেফাঁস মন্তব্য করেছিলেন। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, “আমি দেখব, ৪ তারিখ রাত ১২টার পরে কে বাঁচাতে আসে। এই জল্লাদদের কত ক্ষমতা আছে, আর দিল্লি থেকে কোন বাবা তাঁদের উদ্ধার করতে আসে, সেটাও দেখব। ডিজে তো বাজবেই, এমন জোরে বাজবে, কান ঝালাপালা করে দেব!” এই মন্তব্যের জেরে উসকানি ও হুমকির অভিযোগে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর দায়ের করেন বাগুইআটির এক বাসিন্দা। পরে মামলার গুরুত্ব বুঝে তদন্তভার নেয় সিআইডি (CID)।
আগামী ৮ জুলাই, বুধবার বিধাননগর আদালতে অভিষেককে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ম্যাজিস্ট্রেট ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সামনে তাঁর ভয়েস স্যাম্পল বা কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করবে সিআইডি। এই গ্রেফতারি ও হাজিরার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে শুক্রবার জাস্টিস সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেকের আইনজীবীরা। কিন্তু বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আগামী মঙ্গলবারের আগে আমি এই বিষয়ে কোনও আবেদন শুনব না।” ফলে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে মঙ্গলবার ফের নতুন করে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে।
সই জালিয়াতির কেলেঙ্কারি: ১৭ জুলাই পর্যন্ত বাড়ল রক্ষাকবচ
ডিজে মামলায় ধাক্কা খেলেও, বিধানসভার বহুচর্চিত সই জালিয়াতি মামলায় বড়সড় আইনি স্বস্তি পেয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের জরুরি বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত অভিষেকের ওপর কোনও সিআইডি কড়া পদক্ষেপ বা গ্রেফতারি করতে পারবে না। যেহেতু মূল বেঞ্চের বিচারপতি কৌশিক চন্দ বর্তমানে সার্কিট বেঞ্চে রয়েছেন, তাই অন্তর্বর্তীকালীন এই আইনি রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ানো হলো।
৭০ বিধায়কের সই মেলাতেই বিপত্তি! কীভাবে ফাঁস হয়েছিল জালিয়াতি?
ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসে। কালীঘাটের বৈঠকে তৃণমূলের তরফে বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিধানসভার সচিবালয়ে ৭০ জন তৃণমূল বিধায়কের সই করা একটি সমর্থনপত্র জমা দেয় কালীঘাট শিবির। কিন্তু বিধায়কদের শপথগ্রহণের মূল খাতার সইয়ের সঙ্গে এই কাগজের সই মেলাতেই চোখ কপালে ওঠে বিধানসভার সচিবের। আক্ষরিক অর্থেই দুই জায়গায় সইয়ের ব্যাপক গরমিল ধরা পড়ে। জল গড়ায় জীবনতলা ও বিধাননগর থানায়। সিআইডি তদন্তে নেমে দলের একাধিক ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ককে জেরা করতেই জালিয়াতির মূল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে অভিষেকের দিকে আঙুল ওঠে। এই মামলাতেই এবার আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত সাময়িক স্বস্তিতে রইলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড।






