তৃণমূলের প্রতীক ও তহবিল কার? এবার ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে জ্ঞানেশের দরবারে ঋতব্রত শিবির
যাঁকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন মমতা, সেই জ্ঞানেশ কুমারের হাতেই এবার তৃণমূলের ভাগ্য নির্ধারণ!
Truth of Bengal: কালের চক্র বোধহয় একেই বলে! বঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁর নামের সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে তীব্র কটাক্ষ করতেন, যাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে সামনের সারিতে ছিল তৃণমূল, সেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের এজলাসেই এবার নির্ধারিত হতে চলেছে মমতা-পন্থী তৃণমূলের রাজনৈতিক ভাগ্য। নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, প্রতীক এবং তহবিল নিজেদের দখলে নিতে এবার সরাসরি দিল্লির নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা।
বৃহস্পতিবারই সরকারিভাবে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এই হাই-প্রোফাইল আইনি লড়াই শুরু হতে চলেছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার সময় ঋতব্রতপন্থীদের ১০ সদস্যের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল দিল্লির নির্বাচন সদনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এই মেগা বৈঠকের জন্য বুধবার বিকেলেই দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন ঋতব্রত শিবিরের নেতারা। সেখানে গিয়ে তাঁরা দলের প্রতীক ‘জোড়াফুল’ এবং দলীয় তহবিলের ওপর নিজেদের আইনি অধিকার দাবি করবেন।
বিতর্কের সূত্রপাত চলতি মাসেই কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠককে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, সেখানে একতরফাভাবে তৃণমূলের চেয়ারপার্সন পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে অরূপ রায়কে নতুন চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৩০ সদস্যের একটি নতুন কার্যকরী কমিটিও গঠন করেছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই কলকাতার সিইও (CEO) অফিসে গিয়ে সেই ‘বিশেষ অধিবেশনে’র সমস্ত নথি জমা দিয়ে এসেছেন ঋতব্রত শিবিরের ৫ বিধায়ক। এবার দিল্লির মঞ্চে সেই অধিবেশনের পুঙ্খানুপুঙ্খ ‘মিনিটস’ সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
ঋতব্রত শিবিরের সাফ দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপার্সন ধরে আগে যে কর্মসমিতি গঠিত হয়েছিল, তার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে বর্তমান কালীঘাট কমিটির কোনও আইনি বৈধতা নেই। শুধু পরিষদীয় দলই নয়, দলের মূল সংগঠনও যে তাঁদের সঙ্গে রয়েছে, তা কমিশনের কাছে প্রমাণ-সহ দাবি করবেন তাঁরা। অন্যদিকে, এই মেগা লড়াইয়ের আঁচ পেয়ে বসে নেই কালীঘাট তৃণমূলও। তাঁরাও ইতিমধ্যেই কমিশনে চিঠি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দলের একমাত্র চেয়ারপার্সন এবং তাঁদের নতুন কমিটির তালিকাও জমা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই আবহে তৃণমূলের অন্দরের এই প্রতীক যুদ্ধ যে বহুদূর গড়াবে এবং বাংলার রাজনীতিকে এক নতুন মোড় দেবে, তা বলাই বাহুল্য।






