দক্ষিণবঙ্গে নিম্নচাপের জেরে প্রবল বর্ষণ! পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে লাল সতর্কতা
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এখনই এই দুর্যোগ থেকে নিস্তারের কোনও সম্ভাবনা নেই।
Truth of Bengal: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী নিম্নচাপের প্রভাবে রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে অবিরাম বৃষ্টি চলছে। শ্রাবণের শেষ লগ্নে এই একটানা বর্ষণের জেরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বঙ্গবাসী। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এখনই এই দুর্যোগ থেকে নিস্তারের কোনও সম্ভাবনা নেই। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থান করে ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর ফলে সোমবার অর্থাৎ ১৭ অগস্ট বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মারাত্মক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া দফতরের তরফে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কায় পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ায় লাল সতর্কতা (রেড অ্যালার্ট) ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে এই তিন জেলার নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, হাওড়া ও হুগলি-সহ দক্ষিণবঙ্গের মোট সাতটি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির কারণে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতাতেও সোমবার দিনভর ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে, যার জেরে শহরের একাধিক নিচু রাস্তায় জলজট ও যানজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টানা এই বৃষ্টির পাশাপাশি নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় পশ্চিমাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার একাধিক জেলায় বন্যা ও নদী ভাঙনের চরম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের বৃষ্টি। জলস্তর বাড়তেই দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি) চলতি মরসুমের প্রথম দফায় ৩২ হাজার কিউসেক জল ছাড়তে শুরু করেছে। ডিভিসির ছাড়া জল এবং নিম্নচাপের জোড়া ফলায় নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে সবরকমভাবে সতর্ক ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং নদী তীরবর্তী মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





