রাজ্যের খবর

“পয়সা নিয়ে জতুগৃহ বানানো হয়েছে!”, তারাপীঠের দুর্ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে কাকে তোপ দাগলেন বিধায়ক ধ্রুব সাহা?

তারাপীঠে ভিআইপি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! ৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রকাশ্যে উন্নয়ন পর্ষদের ভয়ঙ্কর কঙ্কালসার রূপ!

Truth of Bengal: তারাপীঠের ঘিঞ্জি এলাকা, যার অলিগলিতে থিকথিক করছে একের পর এক হোটেল ও বহুতল। তারই মাঝে একটি বহুতল হোটেলে রবিবার ভোরে নেমে এল চরম বিপর্যয়। আগুন লাগার খবর পেয়েও সংকীর্ণ গলির কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে কালঘাম ছুটল দমকল কর্মীদের। কীভাবে এমন ঘিঞ্জি ও বিপজ্জনক জায়গায় একটি বহুঝুঁকিপূর্ণ হোটেল গড়ে তোলার অনুমতি দেওয়া হল, তা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে বইছে ঝড়।

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন পূর্বতন সরকারের আমলে গঠিত তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের (TRDA) দিকে। বিধায়কের বিস্ফোরক অভিযোগ, “এত বড় একটা ভবন গড়ে তোলা হল, অথচ সেখানে ন্যূনতম অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নেই! কার্যত একটা জতুগৃহ বানিয়ে রাখা হয়েছিল। তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদ স্রেফ মোটা টাকার বিনিময়ে এই সমস্ত অবৈধ নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তার কথা, আগুন নেভানোর ব্যবস্থার কথা কেউ ভাবেনি। আজ যে কয়লা হয়ে গেল এতগুলো তাজা প্রাণ, এই দায় কে নেবে?”

প্রসঙ্গত, ঘটনার আগের দিনই দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃতদেহ। তাঁর দেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটেও প্রশাসনিক দুর্নীতি ও কাটমানির সুস্পষ্ট উল্লেখ ছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই অগ্নিকাণ্ড উন্নয়ন পর্ষদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতির কঙ্কালসার চেহারাটা সাধারণ মানুষের সামনে এনে দাঁড় করাল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ জানিয়েছেন, ভোর ৫টা নাগাদ থানায় প্রথম ফোন আসে। হোটেলটি কাচে ঘেরা হওয়ায় এবং দরজা-জানলা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে ধোঁয়া বোঝা যাচ্ছিল না। পুলিশ ও দমকল দ্রুত পৌঁছে মই লাগিয়ে জানলা ভেঙে উদ্ধারকাজ শুরু করে। মোট ২২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ১১ জনকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়, যার মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সুপার স্পষ্ট জানিয়েছেন, হোটেলের ফায়ার লাইসেন্স এবং নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোটেল মালিককে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে এবং ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করছে। উদাসীনতা বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Related Articles