রাজ্যের খবর

“কেস হবে? ওরকম কেস আমাদের অনেক আছে!”জনসভায় হুংকার হুমায়ুনের

জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেওয়ার পর এবার ফের বিতর্কে জড়ালেন তিনি

Truth of Bengal: প্রাক্তন শাসক শিবির থেকে বহিষ্কারের পরও ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে নিজের রাজনৈতিক শক্তি দেখিয়েছেন মুর্শিদাবাদের দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীর। নওদা ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্র থেকে জিতে জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেওয়ার পর এবার ফের বিতর্কে জড়ালেন তিনি। বিধায়ক হিসেবে জনসভা করতে গিয়ে ফের বেলাগাম মন্তব্য ও হুঁশিয়ারির জেরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শুক্রবার রেজিনগরের কাশীপুর এলাকায় জনসভা করেন হুমায়ুন কবীর। সেখান থেকেই বিজেপিকে উদ্দেশ করে তাঁর হুঁশিয়ারি, রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়েছে, সেটি আলাদা বিষয়। কিন্তু মুর্শিদাবাদে হেরে গিয়েও কয়েকজন এমন আচরণ করছেন, যেন তাঁরাই এলাকার বিধায়ক। সেই আস্ফালন বন্ধ করার পরামর্শ দেন তিনি। এরপরই তাঁর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক চরমে ওঠে। হুমায়ুন বলেন, তিনি মুসলিমদের একত্রিত করলে পালানোর রাস্তা থাকবে না। মামলা হলে তা নিয়েও তিনি পরোয়া করেন না বলে দাবি করেন।

এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য বিতর্কে জড়িয়েছেন হুমায়ুন কবীর। প্রাক্তন শাসকদলের বিধায়ক থাকাকালীনও তাঁর একাধিক মন্তব্য ঘিরে অস্বস্তিতে পড়েছিল তৃণমূল। ভোটের আগে লাগাতার বিতর্কিত ও হিংসাত্মক মন্তব্যের অভিযোগেই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর নিজেই আমজনতা উন্নয়ন পার্টি গড়ে নির্বাচনে নামেন হুমায়ুন। ছাব্বিশের ভোটের আগে তাঁকে ঘিরে আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাত করে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। যদিও সেই সব বিতর্ককে পেছনে ফেলে নওদা ও রেজিনগর—দুই আসন থেকেই জয়ী হন হুমায়ুন। পরে রেজিনগর আসনটি তিনি ছেলের জন্য ছেড়ে দেন।

সেই রেজিনগরেই শুক্রবারের সভায় ফের কড়া ভাষায় বিজেপিকে সতর্ক করেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জানিয়েছেন, বিজেপি জিতেছে, সরকার গড়েছে—কিন্তু মুর্শিদাবাদে আস্ফালন কমাতে হবে। তাঁর আরও বক্তব্য, প্রশাসন বা মামলা দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো যাবে না। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি নিজেই নেতৃত্ব দেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন। হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পরও তাঁর ভাষা ও রাজনৈতিক ভঙ্গিতে কোনও পরিবর্তন আসেনি বলেই অভিযোগ উঠছে বিরোধী মহলে। তবে তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে এখনও পর্যন্ত শাসক শিবিরের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Related Articles