কলকাতা

শুভেন্দুর নির্দেশের পরেই লালবাজারের মেগা অ্যাকশন! তারাতলা কাণ্ডে গ্রেফতার মালিক-সহ ৫

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের ঘণ্টাদেড়েকের মধ্যেই অ্যাকশন! তারাতলা কাণ্ডে পুলিশের জালে মালিক শম্ভুনাথ বেহেরা

Truth of Bengal: তারাতলার ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন চা গুদাম বিপর্যয়ের ঘটনায় এবার নজিরবিহীন তৎপরতা দেখাল পুলিশ প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের ঠিক ঘণ্টাদেড়েকের মধ্যেই লালবাজারের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে গ্রেফতার করা হল ৫ অভিযুক্তকে। ধৃতরা হলেন বেহেরা ব্রাদার্সের কর্তা শম্ভুনাথ বেহেরা, পেশায় স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, সুপারভাইজ়ার সৈয়দ মহম্মদ গুলজ়ার, গুদামে কর্মী জোগান দেওয়া (লেবার সাপ্লায়ার) মহম্মদ আতাউল এবং সুভাষ সরকার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সৈয়দ মহম্মদ গুলজার ছিল ওই বহুতল নির্মাণকাজের মূল সুপারভাইজার। অন্যদিকে, আতাউল এবং সুভাষই ওই সাইটে রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিক সরবরাহের (Labour Supplier) কাজ করত।

বুধবার দুপুরে তারাতলার তিনতলা গুদামটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার পর থেকেই উদ্ধারকাজের প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দুপুর আড়াইটে নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল বুঝতে পেরে কালবিলম্ব না করে উদ্ধারকাজে ভারতীয় সেনাকে (Indian Army) নামানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধ্বংসস্তূপ কাটার জন্য ভার্টিকাল ড্রিলিং শুরু করে সেনা, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। কংক্রিটের নিচে কে কোথায় আটকে রয়েছে, তার নিখুঁত হদিশ পেতে ওড়ানো হয় অত্যাধুনিক ড্রোন। একই সঙ্গে রাতের অন্ধকারেও তল্লাশি চালাতে নামানো হয়েছে লালবাজারের দু’টি দক্ষ স্নিফার ডগ।

এসএসকেএম-এ মুখ্যমন্ত্রী, কতজন শ্রমিক নিখোঁজ?

দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পর এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “তারাতলার ওই কারখানায় কর্মরতদের বেশিরভাগই বিহার এবং মুঙ্গেরের বাসিন্দা। কিন্তু ঠিক কতজন শ্রমিক ওই মরণফাঁদের নিচে কাজ করছিলেন, তার সঠিক হিসাব পেতে লালবাজারকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

রাতেও দুর্ঘটনাস্থলে মুখ্যসচিব-স্বরাষ্ট্রসচিব, চলবে ম্যারাথন জেরা

মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, শ্রমিক সরবরাহকারীদের অবিলম্বে জালে পুরে জেরা করলেই স্পষ্ট হবে যে আদতে কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন, কতজন প্রাণে বেঁচেছেন আর কতজন এখনও নিখোঁজ। মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। দ্রুত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় এনে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। এদিকে, উদ্ধারকাজ তদারকি করতে এবং পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করতে বুধবার গভীর রাতেও দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। গাফিলতি প্রমাণিত হলে দোষীদের কাউকেই যে রেয়াত করা হবে না, এই ঝোড়ো গ্রেফতারিতে তা স্পষ্ট।

Related Articles