“যাঁরা পালাতে চান, জলদি পালান!”, অনুপ্রবেশকারীদের দেশ ছাড়ার হুঙ্কার শুভেন্দুর
১০ হাজার তাড়ানো শেষ, লাইনে আরও ১৮০০! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
Truth of Bengal: ‘‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট!’’, অনুপ্রবেশ রুখতে ভারত সরকারের এই কড়া ও আপসহীন নীতি থেকে এক চুলও সরবে না পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে দাঁড়িয়ে এই সাফ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিলজলা বিধানসভার উত্তপ্ত আবহে আগের তৃণমূল সরকারকে তুলোধোনা করে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “এর মধ্যেই ওপারে পাঠানো শুরু করে দিয়েছি। কোনো জেল বা সাজা নয়, এ রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের সোজা ডিপোর্ট (দেশছাড়া) করে দেওয়া হবে।” তবে একই সঙ্গে আতঙ্ক দূর করতে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, “যাঁরা প্রকৃত ভারতবাসী, তাঁদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। তিনি যে ধর্মেরই হোন বা যে সম্প্রদায়ের।”
মঙ্গলবার রাজ্যপালের ভাষণের ওপর জবাবি বক্তব্য রাখতে গিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই সামান্য সময়ের মধ্যেই ইতিমধ্যেই ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে সীমান্তের ওপারে পুশব্যাক করা হয়েছে। এছাড়া রাজ্যের ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১৮০০ জন অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে, যাদেরও দ্রুত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট কথা, “যাদের নাম সিএএ (CAA)-র অধীনে নেই, তাদের সবাইকে তাড়াব। কিন্তু যাঁরা সত্যিকারের দেশভক্ত ভারতীয়, তাঁরা নিশ্চিন্তে থাকুন।”
“ভারতীয়দের টাকায় শুধু ভারতীয়রাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবে”
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সরকারি প্রকল্পের টাকা নিয়ে বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলার টাকায়, ভারতীয়দের করের টাকায় শুধু ভারতীয়রাই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ পাবে। শুধু ভারতীয়রা বার্ধক্য ভাতা, বেকার ভাতা পাবে। এ দেশের ছেলেমেয়েদের চাকরি হবে, স্কুলের সংস্কার হবে। কোনও অনুপ্রবেশকারীকে ভারতীয়দের হকের টাকা ছুঁতেও দেব না।”
বিএসএফ-কে ১৪২ একর জমি, হাকিমপুর দিয়ে পলায়ন!
সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে আগের তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে শুভেন্দুর প্রশ্ন, “এতদিন ধরে বিএসএফ-কে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দেওয়া হয়নি কেন? এই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আগের মুখ্যমন্ত্রী বিএসএফ-কে প্রতিনিয়ত গালমন্দ করেছেন।” তিনি জানান, নতুন সরকার এসেই বিএসএফ-এর হাতে ১৪২.৭৯ একর জমি তুলে দিয়েছে এবং খুব দ্রুত পুরো সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ হবে।
রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে শুভেন্দু বলেন, “আমার কথা শোনার পর হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে অনেকেই ইতিমধ্যেই পালিয়েছে। বাকি যাঁরা আছেন, তাঁরাও তাড়াতাড়ি চলে যান। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আর বাংলাকে সুরক্ষিত করার জন্য এই সরকারের নীতি একদম পরিষ্কার।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আগামী দিনে সীমান্তে আয়রন হ্যান্ড বা কঠোর নীতি নিয়েই চলবে নতুন সরকার এবং পুশব্যাকের সংখ্যা আরও বাড়তে চলেছে।



