ইরান-আমেরিকা সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পথে, শীঘ্রই শেষ হতে পারে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত
তাঁর দাবি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ‘ইসলামাবাদ মউ’ স্বাক্ষরিত হতে পারে, যার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুলবে।
Truth of Bengal: পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। আমেরিকার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (মউ) চূড়ান্ত হওয়ার পথে বলে জানিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর দাবি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ‘ইসলামাবাদ মউ’ স্বাক্ষরিত হতে পারে, যার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুলবে।
আরাঘচি জানান, বহুদিন ধরে চলা আলোচনা এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পরই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। তাঁর মতে, এই সমঝোতা শুধু ইরান ও আমেরিকার সম্পর্কেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে না, বরং লেবানন-সহ গোটা অঞ্চলে সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মউয়ের অন্যতম প্রধান শর্ত হল দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে এবং পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। আরাঘচির দাবি, গত ৪৭ বছরে এই প্রথম আমেরিকা লিখিতভাবে ইরানের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিতে সম্মত হয়েছে।
তবে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। আরাঘচি স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান মউ মূলত যুদ্ধ ও সংঘাতের অবসান নিয়ে। পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হবে দ্বিতীয় পর্যায়ে, যা শুরু হতে পারে চুক্তি স্বাক্ষরের পর। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে প্রায় ৬০ দিন সময় লাগতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী দীর্ঘদিন অস্থিরতার মধ্যে ছিল। আমেরিকা ও ইরানের সামরিক উত্তেজনার ফলে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় এবং তার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। আরাঘচি জানিয়েছেন, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার দায়িত্ব নেবে ইরান। তবে যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতিতে পুরোপুরি ফেরা হবে না এবং নতুন কিছু শর্ত কার্যকর হতে পারে।
এছাড়াও সংঘাতের আবহে বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ও অনুদান ফেরানোর বিষয়েও আলোচনার কাঠামো তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ইরানের আশা, ভবিষ্যৎ আলোচনায় এই বিষয়েও ইতিবাচক সমাধান মিলবে।
উল্লেখ্য, এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেছিলেন যে ইরান-আমেরিকা চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত এবং খুব দ্রুত হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া হতে পারে। সে সময় ইরান সেই দাবি মানতে নারাজ ছিল। তবে এবার আরাঘচির মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মউ স্বাক্ষরিত হলে শুধু ইরান-আমেরিকা সম্পর্কই নয়, গোটা পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।






