স্কুলের সিক রুমে কন্ডোম, অ্যাকাউন্ট সেকশনে লাখ লাখ নগদ! কাঁচরাপাড়ার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে চাঞ্চল্য
বুধবার রাতের এই ঘটনাকে ঘিরে স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন
Truth of Bengal: কাঁচরাপাড়ার হার্নেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সিক রুম থেকে কন্ডোমের প্যাকেট এবং অ্যাকাউন্ট সেকশন থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার রাতের এই ঘটনাকে ঘিরে স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ঘটনার দায় কার্যত অ্যাকাউন্টস বিভাগের ওপর চাপিয়েছেন স্কুলের প্রিন্সিপাল বিকাশ চন্দ্র পাল। তাঁর দাবি, এপ্রিল মাস থেকে স্কুলের অ্যাডমিশন বাবদ যে টাকা জমা হয়েছিল, তা ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল অ্যাকাউন্ট সেকশনের। কেন সেই টাকা ব্যাঙ্কে জমা পড়েনি, তার জবাব ওই বিভাগকেই দিতে হবে।
প্রিন্সিপাল জানিয়েছেন, অ্যাডমিশনের টাকা স্কুলের অ্যাকাউন্টস সেকশনে রাখা ছিল। সেই টাকা ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াও অ্যাকাউন্টস বিভাগই দেখত। উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত হওয়া উচিত বলেও দাবি করেছেন তিনি। অন্যদিকে, স্কুলের সিক রুমের আলমারি থেকে কন্ডোম উদ্ধারের বিষয়টিও স্বীকার করেছেন প্রিন্সিপাল। তবে কীভাবে তা সেখানে এল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেই দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং তদন্তেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস দাবি করেছেন, একটি প্যাকেট থেকেই প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া টাকা স্কুলের নয়। বরং কাঁচরাপাড়া পুরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান কমল অধিকারী, বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুবোধ অধিকারী এবং বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের ‘কালো টাকা’ স্কুলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
সুদীপ্ত দাসের দাবি, স্কুলকে ঢাল করে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রাখা হয়েছিল। এই টাকার উৎস কী, কেন তা স্কুলের অ্যাকাউন্ট সেকশনে রাখা ছিল এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত—সব দিক খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি। ঘটনার জেরে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এমন নগদ অর্থ এবং সিক রুম থেকে কন্ডোম উদ্ধারের ঘটনায় স্কুলের নিরাপত্তা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।



