কলকাতা

রংবদলের পালা এবার নবান্নেও, নীল-সাদা ভবনে লাগছে গেরুয়া প্রলেপ

মঙ্গলবার এক শুভ অমৃতযোগ দেখেই নবান্ন চত্বরে পড়ল গেরুয়া রঙের প্রথম প্রলেপ।

Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক জমানার অবসানের পর, শুধু যে প্রশাসনিক স্তরে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে তা-ই নয়, সরকারি কাজকর্মের ধরনেও এক আমূল বদল এসেছে। বিগত তৃণমূল সরকারের তুলনায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঢের বেশি সময় দিচ্ছেন প্রশাসনিক কাজে। ফলে থমকে থাকা বা ধীরগতির সরকারি ফাইল ও কাজ এগোচ্ছে অভাবনীয় দ্রুততায়। পাশাপাশি, দিল্লির সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের সমন্বয়ের গতিও এখন রকেট ছুঁইছুঁই। আর এই প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের মাঝেই এবার নবান্নে শুরু হয়ে গেল দৃশ্যমান ভোলবদলের পালা।

মঙ্গলবার এক শুভ অমৃতযোগ দেখেই নবান্ন চত্বরে পড়ল গেরুয়া রঙের প্রথম প্রলেপ। গোটা ১৪ তলা নবান্ন ভবনকে সম্পূর্ণ গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্য পূর্ত দফতর (PWD) এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক দরপত্র বা টেন্ডার ডাকেনি ঠিকই, তবে নবান্ন সভাগৃহের (Nabanna Sabhaghar) ভেতর জোরকদমে গেরুয়া ও সাদা রঙ লাগানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, কোনো রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবনকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ রঙে রাঙিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি অতীতে এ রাজ্যে ছিল না। ভারতের কিছু প্রাচীন বা ঐতিহাসিক শহরে নির্দিষ্ট রঙের ব্যবহার দেখা যেত মূলত সেখানকার ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য। যেমন রাজস্থানের জয়পুরকে তার ঐতিহাসিক স্থাপত্যের কারণে ‘গোলাপি শহর’ বা পিঙ্ক সিটি বলা হতো, যদিও আধুনিকতার ছোঁয়ায় ইদানীং সেই ধারাও কিছুটা ফিকে হয়েছে।

বাংলায় এই নীল-সাদা রঙের আমদানি ঘটেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানার একেবারে শুরুর দিনগুলিতে। এমনটা নয় যে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকার সঙ্গে নীল-সাদার কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিরচেনা নীল পাড় সাদা শাড়ির সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই সুকৌশলে এই রঙ বেছে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে সায়েন্স বা বাস্তবতাকে একপ্রকার জলাঞ্জলি দিয়ে শুধু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনই নয়, রাজ্যের সমস্ত ফ্লাইওভার থেকে শুরু করে রাস্তার রোড ডিভাইডার পর্যন্ত নীল-সাদা রঙে মুড়ে দেওয়া হয়েছিল। ‘কর্তার ইচ্ছা’ অর্থাৎ দলনেত্রীর ব্যক্তিগত পছন্দ হওয়ায় সেই সময়ে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের কোনো কর্তার এই খামখেয়ালিপনা নিয়ে আপত্তি তোলার সাহস ছিল না।

তবে রাজ্যের ক্ষমতা থেকে তৃণমূল বিদায় নিতেই এবার নবান্নে শুরু হলো উলটপুরাণ। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নবান্নের নীল-সাদা রঙ আমজনতার চোখ-সওয়া হয়ে গেলেও, একটি রাজ্যের প্রধান সচিবালয় হিসেবে তার মধ্যে কর্পোরেট বা পেশাদারি ভাবের (Professional look) যথেষ্ট অভাব ছিল। তবে নীল-সাদা মুছে এখন যে নতুন করে গেরুয়া ও সাদা রঙ করার কাজ শুরু হলো, তা-ই বা দেখতে কতটা ভালো ও মানানসই লাগবে, তা নিয়েও ওয়াকিবহাল মহলের মধ্যে কিছুটা সংশয় রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যেকোনো প্রশাসনিক ভবনকে রাজনৈতিক রঙের প্রতীক না বানিয়ে এমন নিরপেক্ষভাবে রঙ করা উচিত, যাতে তা বাস্তবেই একটি নিরপেক্ষ, গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং মর্যাদাশীল সচিবালয়ের রূপ পায়।

Related Articles