কলকাতা

মধ্যরাতে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ যাদবপুরে, আটক সৃজন-সহ একাধিক

আকস্মিক এই উচ্ছেদের জেরে গভীর রাতে ঘরছাড়া ও রুজি-রুটি হারিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এলাকার হকার ও প্রান্তিক মানুষজন। 

Truth of Bengal: কোনরকম আগাম নোটিস বা বিস্তারিত সময় না দিয়েই, মাত্র দশ মিনিটের হুঁশিয়ারিতে মধ্যরাতে নজিরবিহীন ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ যাদবপুরে। এলাকা জুড়ে তখন আরপিএফ, কলকাতা পুলিশ এবং রেল কর্তৃপক্ষের বিশাল বাহিনী মোতায়েন। চারপাশ ব্যারিকেড করে ঘিরে ফেলে মাঝরাতের অন্ধকারেই জেসিবি (JCB) দিয়ে একের পর এক দোকান ও অস্থায়ী নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হয়। শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন চত্বরের পর এবার রেলের উচ্ছেদ অভিযানের কোপ এসে পড়ল যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। আকস্মিক এই উচ্ছেদের জেরে গভীর রাতে ঘরছাড়া ও রুজি-রুটি হারিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এলাকার হকার ও প্রান্তিক মানুষজন।

রেলের এই আচমকা উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতের যাদবপুর কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পরিস্থিতি সামলাতে এবং জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও আরপিএফের পক্ষ থেকে ব্যাপক লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ। হকারদের পুনর্বাসনের দাবিতে এবং এই ‘বুলডোজার নীতি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাতেই সেখানে জড়ো হয়েছিলেন ডিওয়াইএফআই (DYFI) ও বাম কর্মী-সমর্থকরা। পুলিশের লাঠিচার্জে একাধিক বাম কর্মী আহত হন। এমনকি প্রবীণ বাম নেতা সুজন চক্রবর্তীর উপরেও লাঠি চালানো হয়েছে বলে খবর। ঘটনাস্থল থেকে যুব সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যসহ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ।

এর আগে গত ২ জুন রাতেও ঠিক একইভাবে যাদবপুর স্টেশনের বাইরে হকার উচ্ছেদের জন্য বুলডোজার এসে হাজির হয়েছিল। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন সৃজন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বাম কর্মী, ছাত্রছাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিবাদীদের হাতে ছিল আম্বেদকর, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ছবি। তাঁদের সাফ হুঁশিয়ারি ছিল—গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরে উচ্ছেদ করতে হলে তাঁদের ওপর দিয়েই বুলডোজার চালাতে হবে। সেই রাতে প্রবল জনরোষের মুখে পড়ে রেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর ঠিক হয়েছিল, আদালত খুললে আইন মেনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে এবং এর জন্য অন্তত তিন সপ্তাহের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু প্রশাসনের সেই আশ্বাসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ফের মধ্যরাতের অন্ধকারে অতর্কিতে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলো। বিক্ষোভকারীদের সমস্ত আইনি লড়াই ও পুনর্বাসনের দাবিকে কার্যত ধূলিসাৎ করে দিয়ে, ‘বুলডোজার হটাও’ স্লোগান আর ধিক্কারের মাঝেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো স্টেশন চত্বরের বহু দোকানপাট। হাওড়া ও শিয়ালদহের পর যাদবপুরের এই আকস্মিক বুলডোজার অ্যাকশনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

Related Articles