বিজেপিকে রুখতে ‘একের বিরুদ্ধে এক’, দেরিতে হলেও রাহুলের ফর্মুলাতে সায় দিতে পারেন মমতা
৮ জুন ইন্ডিয়া জোটের মেগা বৈঠকে বড় চাল চালতে চলেছেন মমতা-অভিষেক
Truth of Bengal: রাজনীতিতে চিরস্থায়ী শত্রু বা মিত্র বলে কিছু হয় না, এই প্রচলিত প্রবাদটিই ফের একবার প্রমাণিত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে। রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর এবার চরম ‘বিলম্বিত বোধোদয়’ ঘটল সদ্য প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের। অতীতে বাংলায় ক্ষমতায় থাকাকালীন কংগ্রেসের যে নির্বাচনী ফর্মুলাকে কার্যত নস্যাৎ ও উপহাস করে উড়িয়ে দিয়েছিলেন মমতা-অভিষেকরা, এবার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে সেই ফর্মুলাকেই আপন করতে চলেছে ঘাসফুল শিবির। আগামী ৮ জুন দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত হতে চলেছে বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। আর সেই বৈঠকেই আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে রুখতে ‘একের বিরুদ্ধে এক’ প্রার্থী দেওয়ার মেগা প্রস্তাব পেশ করতে চলেছে তৃণমূল।
ঠেলায় পড়ে কি তবে নমনীয় তৃণমূল?
বিগত কয়েক বছর ধরে দেশজুড়ে বিজেপি বিরোধী ভোট যাতে ভাগ না হয়, তার জন্য একের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে লাগাতার সওয়াল করে আসছিলেন রাহুল গান্ধীরা। কিন্তু সেই সময় আঞ্চলিক দলগুলির দাপটে তা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় কংগ্রেস ৪২টি আসনের মধ্যে ১০টি আসন দাবি করলে তা নাকচ করে দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। এমনকি বহরমপুরে অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে হারানোকে প্রেস্টিজ ফাইট বানিয়ে ফেলেছিল তৃণমূল, যার জেরে কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে।
কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূলের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর এখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে দলটির। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে এবং কেরলে বামেদের বিপর্যয়ের পর জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটে ফের চালকের আসনে ফিরে এসেছে কংগ্রেস। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তৃণমূলের এখন একমাত্র যুক্তি, বিজেপিকে ঠেকাতে গেলে রাহুল গান্ধীর দেখানো পথ ছাড়া আর কোনও রাস্তা খোলা নেই।
“বেড়াল এবার গাছে উঠেছে”, তীব্র কটাক্ষ কংগ্রেসের
তৃণমূলের এই আকস্মিক অবস্থান বদলকে তীব্র খোঁচা দিতে ছাড়েনি কংগ্রেস শিবির। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কংগ্রেস কার্যকরী সমিতির (CWC) এক শীর্ষ সদস্য অত্যন্ত কড়া সুরে বলেন, “কথায় আছে না, ঠেলায় না পড়লে বেড়াল গাছে ওঠে না! তৃণমূলের অবস্থা এখন ঠিক তাই। যতদিন নিজেদের ক্ষমতার দম্ভ ছিল, ততদিন ওরা ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে শুধু দুর্বলই করে গিয়েছে। আজ ক্ষমতা চলে যাওয়ায় বাস্তবটা বুঝতে পেরেছে।”
৮ জুনের এই মেগা বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, সোনারপুরের ঘটনার পর শারীরিক ধকল কাটিয়ে সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁর সঙ্গী হতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে যে জাতীয় রাজনীতিতে মোদি-শাহ জুটিকে হারানো অসম্ভব, তা শেষ পর্যন্ত আঞ্চলিক দলগুলি মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




