যৌনপেশা অপরাধ নয়, প্রাপ্তবয়স্কদের স্বেচ্ছায় যৌন পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশি হেনস্তা রুখতে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
এই বিষয়ে দেশের অবস্থান পরিষ্কার করল শীর্ষ আদালত
Truth of Bengal: দেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে যাঁরা নিজেদের ইচ্ছায় যৌন পরিষেবাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তাঁদের সুরক্ষা ও অধিকার রক্ষায় আবারও এক ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক কেউ স্বেচ্ছায় যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করলে তাঁকে কোনোভাবেই পুলিশ হেনস্তা করতে পারবে না এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো রকম অপরাধমূলক মামলাও দায়ের করা যাবে না। নিজের ইচ্ছায় এই পেশায় আসা আইনত কোনো অপরাধ নয়— আরও একবার এই বিষয়ে দেশের অবস্থান পরিষ্কার করল শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিতে গিয়ে স্পষ্ট করে দেয় যে, কেউ যৌনপেশার সঙ্গে যুক্ত— স্রেফ এই অজুহাতে বা এই পরিচিতির কারণে তাঁর ওপর কোনো রকম নির্যাতন বা আইনি কোপ চালানো যাবে না।
আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায়, বহু সময় দেখা যায় যে বিভিন্ন যৌনপল্লিতে (Brothels) অভিযানের সময় পুলিশ বা প্রশাসন যাঁরা স্বেচ্ছায় যৌনশ্রম দিচ্ছেন, তাঁদেরও হেনস্তা করে। অনেক ক্ষেত্রে ‘উদ্ধার’ করার নামে বা পুনর্বাসনের উছিলায় তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ওই পেশা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, এর কোনোটিই করা চলবে না। আদালতের বক্তব্য: “ইমোরাল ট্র্যাফিক (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট বা অনৈতিক পাচার (প্রতিরোধ) আইনের কোথাও এমন কোনো বিধান নেই, যা বলে যে প্রাপ্তবয়স্ক এবং সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় যৌনকর্মে যুক্ত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।” আইনের সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, ভারতে ‘পতিতালয়’ বা ব্রথেল চালানো নিশ্চিতভাবেই একটি অপরাধ। যদি কেউ বেআইনিভাবে পতিতালয় পরিচালনা করে, তবে পুলিশ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কড়া ব্যবস্থা নিতেই পারে। কিন্তু সেই ঘরে কর্মরত কোনো প্রাপ্তবয়স্ক যৌনকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বা তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওই যৌনকর্মীর নিজস্ব মতামত ও ইচ্ছাকেই সবচেয়ে বেশি আইনি গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর অমতে কোনো সিদ্ধান্ত চাপানো যাবে না।
সুপ্রিম কোর্টের এই নতুন ও স্পষ্ট নির্দেশিকার ফলে ভারতের প্রায় ৯ লক্ষ যৌনকর্মী প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন এবং আইনি সুরক্ষা পাবেন। উল্লেখ্য, ভারতের আইন অনুযায়ী দেহ ব্যবসা বা যৌনপেশা সামগ্রিকভাবে অবৈধ না হলেও, পতিতালয় চালানো, যৌনপেশার ব্যবসা ফেঁদে বসা কিংবা কাউকে এই বৃত্তিতে জোরপূর্বক প্ররোচনা দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের এই ফাঁকফোকর ও জটিলতার জেরেই এতদিন বহু স্বাধীন ও স্বেচ্ছাসেবী যৌনকর্মীকে কাজ করতে গিয়ে পুলিশি হেনস্তা ও আইনি জটিলতার শিকার হতে হতো। এর পাশাপাশি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও অত্যন্ত নেতিবাচক। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের এই নতুন গাইডলাইন বা নির্দেশিকা তাঁদের সামাজিক মর্যাদা ও আইনি অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং হেনস্তামুক্ত স্বাধীন জীবনের ক্ষেত্রে এক মস্ত বড় স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছে আইন ও মানবাধিকার মহল।






