রাজ্যের খবর

প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য বিরাট উপহার! চাকরি বাঁচাতে ‘টেট’ পাশের ডেডলাইন বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট

আর ২০২৭ নয়, আরও ১ বছর বাড়তি সময়! বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের ১ রায়ে স্বস্তিতে দেশের ৩০ লক্ষ শিক্ষক

Truth of Bengal: দেশের লক্ষ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষকের জন্য অবশেষে চলে এল এক অত্যন্ত খুশির খবর। কর্মরত শিক্ষকদের শিক্ষকতা যোগ্যতা পরীক্ষা বা ‘টেট’ (TET) পাশ করার জন্য যে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তা আরও এক বছর বাড়িয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ রিভিউ মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের টেট উত্তীর্ণ হওয়ার ডেডলাইন বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩১ আগস্ট করা হলো। শীর্ষ আদালতের এই মানবিক ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের ফলে চাকরি হারানোর চরম আশঙ্কায় দিন কাটানো দেশের লাখো শিক্ষকের পরিবারে বড়সড় স্বস্তি ফিরে এলো।

দেশের ৩০ লক্ষ শিক্ষকের মাথার ওপর ঝুলছিল খাঁড়া

বিদ্যমান শিক্ষা আইন অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার জন্য টেট পাশ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, এই মুহূর্তে গোটা দেশে প্রায় ৩০ লক্ষেরও বেশি কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষক রয়েছেন, যাঁরা এখনও পর্যন্ত টেট উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এই সংক্রান্ত একটি পূর্ববর্তী মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কড়া নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছিল যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টেট পাশ করতে না পারলে সমস্ত কর্মরত শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী পূর্ববর্তী সময়সীমা ছিল ২০২৭ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। তবে শুক্রবারের এই নয়া রায়ের পর শিক্ষকেরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য আরও অতিরিক্ত ১২ মাস সময় পেয়ে গেলেন।

সুপ্রিম কোর্টের নতুন ‘৫ বছরের ফর্মুলা’

এদিনের রায়ে সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশেষ নিয়মও স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত:

  • যাঁদের চাকরির মেয়াদ ৫ বছরের কম: যে সমস্ত প্রবীণ শিক্ষকদের অবসরের আর মাত্র ৫ বছর বা তার কম সময় বাকি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই টেট পাশের নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, টেট পাশ না করলেও তাঁদের চাকরি যাবে না। তবে তাঁরা যদি চাকুরিকালীন কোনও পদোন্নতি বা প্রমোশন চান, তবে তাঁদের টেট পাশ করতেই হবে।

  • যাঁদের চাকরির মেয়াদ ৫ বছরের বেশি: তুলনামূলকভাবে নতুন বা যাঁদের চাকরির মেয়াদ ৫ বছরের বেশি বাকি আছে, তাঁদের জন্য এই ২০২৮ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে টেট পাশ করা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক।

পরীক্ষা না দিলে বা ফেল করলে কী হবে?

শীর্ষ আদালত তাঁদের রায়ে অত্যন্ত কঠোরভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, আগামী ২০২৮ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে যদি কোনও শিক্ষক পরীক্ষায় বসতে অস্বীকার করেন কিংবা পাশ করতে ব্যর্থ হন, তবে আইন অনুযায়ী তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে চাকরি ছাড়তে হবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় চাকরি খোয়া গেলেও শিক্ষকদের মানসিকভাবে স্বস্তি দিয়ে আদালত জানিয়েছে, তাঁরা কিন্তু অবসরের পর গ্র্যাচুইটি বা পেনশনের মতো সমস্ত রকমের বৈধ অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।

Related Articles