“হার তো মানতেই হবে, ২৪ দিন ধরে মন্ত্রীরা গায়েব!”, পদ ছেড়েই বিস্ফোরক সুশান্ত-অরূপ
ইস্তফা দিয়েই রণংদেহী সুশান্ত-অরূপ! নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বিজেপিকে খোলাখুলি ধন্যবাদ দুই কাউন্সিলরের
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ফাটল তৈরি হয়েছিল, তা এবার প্রকাশ্য বিদ্রোহের রূপ নিল। বুধবার কলকাতা পুরসভার বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে কসবার দাপুটে কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ এবং অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে বর্ষীয়ান অরূপ চক্রবর্তীর ইস্তফার পরই ঘটল সেই মহাবিস্ফোরণ। পদত্যাগ পর্ব মিটতেই সাংবাদিক বৈঠক করে নাম না করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের শীর্ষ স্তরের নেতাদের তীব্র নিশানা করলেন এই দুই হেভিওয়েট কাউন্সিলর। একই সঙ্গে এই সংকটের সময়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিজেপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁদের পদ্ম-শিবিরে যোগ দেওয়ার জল্পনা এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিলেন।
“হার তো স্বীকার করতেই হবে”, মমতার দাবি ওড়ালেন দুই কাউন্সিলর
ছাব্বিশের ভোটের ফল প্রকাশের পর যখন গোটা রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া, তখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে তিনি হারেননি। কিন্তু বুধবার দলনেত্রীর সেই দাবিকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে সুশান্ত ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “নির্বাচনে যে দলের বিপর্যয় হয়েছে, সেই হার তো স্বীকার করতেই হবে।”
এখানেই থামেননি তাঁরা। দলের সুসময়ের ‘হেভিওয়েট’ মন্ত্রীদের মুখোশ খুলে দিয়ে দুই কাউন্সিলর তোপ দাগেন, “ভোটে হারার পর গত ২৪-২৫ দিনে কোনও মন্ত্রীকে মানুষের পাশে দেখা যায়নি। এতদিন যাঁরা জেড প্লাস (Z+), ওয়াই প্লাস (Y+) নিরাপত্তা নিয়ে ঘুরতেন, তাঁদের আজ কেউ রাস্তায় নেই। এই চামচাগিরি করা নেতাদের জন্যই আমরা এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছাকাছি পর্যন্ত ঘেঁষতে পারতাম না।”
আচমকা বিজেপিকে ধন্যবাদ, নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত
সবচেয়ে বড় চমক মিলেছে সুশান্ত ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তীর মুখে বিজেপির প্রশংসা শুনে। দুই বিদায়ী চেয়ারম্যান খোলাখুলি বলেন, “আমরা বিজেপিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। নির্বাচনের পর আমাদের যে সমস্ত ঘরছাড়া কর্মীরা বিপদে পড়েছিলেন, বিজেপি নেতৃত্ব তাঁদের নিরাপদে ঘরে ফেরাতে বড় সাহায্য করেছেন।”
কাউন্সিলর পদ থেকে এখনই ইস্তফা না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সুশান্তবাবু বলেন, “একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার প্রথম দায়িত্ব হল আমার এলাকার শেষতম ঘরছাড়া ছেলেটিকে ঘরে ফেরানো। সেই কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আমি ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে থাকব।”
রাজ্যে ক্ষমতার চাকা ঘুরতেই যেভাবে দীর্ঘদিনের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার থেকে শুরু করে সুশান্ত ঘোষ বা অরূপ চক্রবর্তীর মতো দলের মুখপাত্ররা প্রকাশ্যে মমতা ও অভিষেকের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার শুরু করেছেন, তাতে রাজনৈতিক মহলের স্পষ্ট ধারণা, বাংলায় তৃণমূলের সাম্রাজ্য এখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার অপেক্ষায়। দুই কাউন্সিলরের এই ‘পদ্ম-বন্দনা’ কলকাতার পুর-রাজনীতিতে এক মস্ত বড় ওলটপালটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।






