দল ডুবলেও জিতেছেন কামারহাটিতে! ‘দুর্দিনে’ বিশ্বস্ত মদনকে বড় উপহার মমতার
কামারহাটির 'কালারফুল' বিধায়ককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদের দায়িত্ব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Truth of Bengal: দলের খারাপ সময়েও বারবার বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে কোথাও যাব না।” সমাজমাধ্যমে পুরনো দিনের লড়াইয়ের ছবি পোস্ট করে বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, তিনি নেত্রীর সেই দুর্দিনের সঙ্গী। গত পাঁচ বছরে দলে তাঁর গুরুত্ব কতটা কমেছে, তা নিয়ে কম চর্চা হয়নি। একসময়ের দাপুটে মন্ত্রী পরে আর কোনও দফতর পাননি, সাংগঠনিক ক্ষমতাও কমে এসেছিল তলানিতে। কিন্তু মুখে চওড়া হাসি আর চোখে ‘কালারফুল’ চশমা এঁটে কামারহাটি আগলে রেখেছিলেন মদন মিত্র। আর ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দল যখন কার্যত খাদের কিনারায়, উত্তর ২৪ পরগনায় যখন গেরুয়া ঝড়, তখনও নিজের কামারহাটিতে ঘাসফুল ফুটিয়েছেন তিনি।
আনুগত্য আর এই লড়াইয়েরই কি এবার বড় ‘পুরস্কার’ পেলেন মদন? নাকি দলের এই চরম খারাপ সময়ে পুরনো ও বিশ্বস্ত সেনাপতির ওপরেই ফের ভরসা রাখলেন তৃণমূল নেত্রী? রাজনৈতিক মহলে এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ, ভোটের ফল বেরোতেই কামারহাটির বিধায়ককে এক লাফে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দিল তৃণমূল কংগ্রেস। দমদম সাংগঠনিক জেলার নতুন সভাপতি করা হল মদন মিত্রকে।
তৃণমূলের অন্দরের খবর, রণকৌশলগত কারণেই এবার বারাকপুর-দমদম সাংগঠনিক জেলাকে ভেঙে সম্পূর্ণ পৃথক ‘দমদম সাংগঠনিক জেলা’ তৈরি করা হয়েছে। আর তার রাশ তুলে দেওয়া হয়েছে মদনের হাতে। তৃণমূল স্তরের কর্মীদের সঙ্গে মদন মিত্রের জনসংযোগ প্রশ্নাতীত। কামারহাটি-সহ গোটা দমদম এলাকাতেই তাঁর নিজস্ব এক অনুগামী বাহিনী রয়েছে। আগামী দিনে দলকে আবার পায়ের তলায় মাটি পাইয়ে দিতে মদনের এই জনসংযোগকেই হাতিয়ার করতে চাইছে শীর্ষ নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর ঘুরে দাঁড়ানোই এখন ঘাসফুল শিবিরের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনায় বিজেপির ব্যাপক সাফল্যের পর, আগামী লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই ঘর গোছাতে চাইছে তৃণমূল। আর সেই কারণেই দমদম ও বারাকপুরকে আলাদা করে কর্মীদের চাঙ্গা করার দায়িত্ব দেওয়া হল মদনকে।
২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন মদন মিত্র। হয়েছিলেন পরিবহণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী। ২০১৬ সালে সারদা মামলায় জেলে থাকার সময় নির্বাচনে হেরে যান। কিন্তু ২০২১ এবং এই ২০২৬, পর পর দু’বার কঠিন পরিস্থিতিতেও কামারহাটি কেন্দ্র ধরে রেখে নিজের রাজনৈতিক উপযোগিতা প্রমাণ করেছেন তিনি। এবার সেই বিশ্বস্ততার দাম পেলেন ‘ওহ লাভলি’ খ্যাত মদন মিত্র।






