‘ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট!’, অনুপ্রবেশকারীদের পুশব্যাকের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, গুরুদায়িত্বে পুলিশ-BSF
আজ থেকেই অ্যাকশন শুরু! সিএএ-র বাইরে থাকলেই গ্রেফতার করে সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে পুলিশ!
Truth of Bengal: বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার অল-আউট অপারেশনে নামছে নতুন বিজেপি সরকার। বুধবার নবান্নে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, বিগত সরকারের সদিচ্ছার অভাবে এতদিন রাজ্য পুলিশের সঙ্গে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ-এর কোনও সমন্বয় ছিল না। গত কয়েক বছর ধরে সীমান্ত জেলাগুলিতে বিএসএফ ও পুলিশের কোনও যৌথ বৈঠক পর্যন্ত হয়নি। কিন্তু নতুন সরকার আসার পরেই গত ১৮ ও ১৯ মে দার্জিলিং, কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ ও বসিরহাটের মতো সমস্ত সীমান্তবর্তী মহকুমায় উচ্চপর্যায়ের কো-অর্ডিনেশন মিটিং সম্পন্ন হয়েছে। এবার থেকে এই সমন্বয় বৈঠক থানা স্তরেও নিয়মিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিএএ-র আওতাভুক্তরা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত, বাকিদের স্থান নেই
অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ ও দেশছাড়া করার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন এক ঐতিহাসিক নীতি ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ২০২৫ সালের ১৪ মে কেন্দ্রীয় সরকার একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠিয়েছিল রাজ্যকে। যেখানে বলা হয়েছিল, ধৃত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে হস্তান্তর করতে হবে। কিন্তু পূর্বতন তৃণমূল সরকার ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে সিএএ-র বিরোধিতা করেছিল এবং সেই নির্দেশিকা ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল।
শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, “পূর্বতন সরকার কেন্দ্রের সেই গুরুত্বপূর্ণ আইন কাজে লাগায়নি, আমরা তা আজ থেকেই রাজজুড়ে কার্যকর করলাম। যারা সিএএ (CAA) বা নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের আওতায় আবেদন করেছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ নিরাপদ। পুলিশ তাঁদের কোথাও কোনওভাবে বিরক্ত বা হেনস্থা করতে পারবে না। কিন্তু যারা এই সিএএ-র আওতার মধ্যে নেই, তারা সম্পূর্ণ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। রাজ্য পুলিশ এখন থেকে তাদের সরাসরি গ্রেফতার করবে।”
বিএসএফ-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘ডিপোর্ট’ করার কাজ শুরু
মুখ্যমন্ত্রী অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে তাঁর সরকারের কঠোর ‘৩ডি’ (3D) নীতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তা হল- ডিটেক্ট (চিহ্নিতকরণ), ডিলিট (নথি বাতিল) এবং ডিপোর্ট (দেশ থেকে বিতাড়ন)। রাজ্য পুলিশ এই সমস্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেফতার করার পর, বিএসএফ-এর সঙ্গে আইনি স্তরে সমন্বয় সাধন করবে এবং অতি দ্রুত তাদের পুশব্যাক বা নিজেদের দেশে বিতাড়ন (Deport) করার বন্দোবস্ত করবে। নতুন সরকারের এই চূড়ান্ত ঘোষণায় সীমান্তজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে ব্যাপক আলোড়ন।






