মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর চাকরির আবেদনের বয়সসীমা বাড়িয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল নবান্ন
অন্য দিকে, গ্রুপ বি স্তরের চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৪ বছর।
Truth of Bengal: ঘোষণা আগেই করেছিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, এবার সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই নবান্ন থেকে জারি হয়ে গেল আনুষ্ঠানিক সরকারি বিজ্ঞপ্তি। রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা একধাক্কায় অনেকটাই বৃদ্ধি করল নতুন বিজেপি সরকার। গ্রুপ এ, গ্রুপ বি, গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি— প্রতিটি স্তরের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। রাজ্যের অর্থ দফতরের অডিট শাখার পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে গ্রুপ এ চাকরির আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৪১ বছর করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে এ-ও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গ্রুপ এ-র কোনো চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনের বয়সসীমা যদি আগে থেকেই ৪১ বছরের বেশি থাকে, তবে তাতে কোনো পরিবর্তন করা হবে না।
অন্য দিকে, গ্রুপ বি স্তরের চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৪ বছর। এর পাশাপাশি গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি পদের চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৫ বছর। নবান্নের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ১১ মে থেকেই এই নতুন নিয়ম রাজ্যজুড়ে কার্যকর হয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গত ১১ মে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক বসেছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আয়োজিত সেই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই জনমুখী ও বড়সড় সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয় এবং ওই দিন বিকেলেই সাংবাদিক বৈঠক করে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী এই সুখবরটি রাজ্যবাসীর সামনে তুলে ধরেন। এবার সেই ঘোষণার ভিত্তিতেই নবান্ন সরকারি নির্দেশিকা জারি করায় চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হলো।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীনই বিজেপি আশ্বাস দিয়েছিল যে, ক্ষমতায় এলে রাজ্যের ধুঁকতে থাকা কর্মসংস্থান ব্যবস্থার ভোলবদল করতে এবং যুবসমাজের স্বার্থে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা গেল। রাজ্যের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনের বয়সসীমা একযোগে ৫ বছর বৃদ্ধি করার এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ২০১৫ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে বড় কোনো সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন হয়নি। এই দীর্ঘ নিয়োগহীন পরিস্থিতির কারণে রাজ্যের বহু যোগ্য ও শিক্ষিত যুবক-যুবতী পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না পেয়েই চাকরির আবেদনের নির্ধারিত বয়সসীমা পার করে ফেলেছিলেন। সেই সমস্ত বঞ্চিত ও ওভার-এজড হয়ে যাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের কথা মানবিকতার খাতিরে মাথায় রেখেই নতুন সরকার প্রথম দিনেই এই বড়সড় ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নবান্নের এই বিজ্ঞপ্তির ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী নতুন করে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন এবং নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করতে পারবেন।






