গড়িয়ায় শৌচালয়ের পাশে কুরুচিকর মূর্তি, অরূপের তৈরি নির্মাণে বুলডোজার চালাল পুরসভা
কোটি টাকার অপচয়ের পর্দা ফাঁস করতে এবার অডিটের নির্দেশ নয়া পুরমন্ত্রীর
Truth of Bengal: দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া শ্মশানের পাশে একটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট বা শৌচাগার তৈরি হয়েছিল বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে। শৌচালয়ের ফলকলিপি অনুযায়ী, সেটি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অনুপ্রেরণায়’ তৈরি এবং এর উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন বিদ্যুৎ ও ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। কিন্তু বিতর্ক তৈরি হয় এই শৌচাগারের ঠিক পাশে বসানো কয়েকটি আপত্তিকর মূর্তি নিয়ে। যেখানে কোনও মূর্তিতে দেখা যাচ্ছে একটি শিশু শৌচকর্মের ভঙ্গিমায় বসে রয়েছে, তো কোথাও আবার নগ্ন অবস্থায় কোনও শিশু স্নান করছে। এই ধরনের নগ্ন ও কুরুচিকর ভাস্কর্য নিয়ে স্থানীয়দের মনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল, যা বুধবার সকালে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় কলকাতা পুরসভা।
“ওদের রুচি বলে কিছু নেই”, গর্জে উঠলেন পুরমন্ত্রী ও বিকাশ
পুরসভার এই অ্যাকশনের পর রাজ্যের বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “আমি মূর্তিগুলির ছবি দেখেছি। আসলে তৃণমূলের কাছ থেকে ভাল কিছু আশা করাই বৃথা। ওদের ন্যূনতম সুরুচি বলে কিছু নেই। শৌচাগারের পাশে শিশুদের এই ধরনের নগ্ন মূর্তি অত্যন্ত নিম্নরুচির পরিচয় দেয়। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা খরচ করে এসব আজেবাজে কাজ করেছে ওরা। আমরা এবার প্রতিটি পুরসভার অডিট করব, কোন খাতে কত টাকা অপচয় হয়েছে সব হিসেব বের হবে।” অন্যদিকে, প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেন, “এটা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুরুচিকর মানসিকতারই স্পষ্ট প্রমাণ।”
View this post on Instagram
মিতালি সংঘের ক্লক টাওয়ারের পর শ্মশান চত্বর, টার্গেটে অরূপের খাসতালুক
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এর ঠিক আগেই গড়িয়ার মিতালি সংঘের মাঠের পাশের একটি বেআইনি ক্লক টাওয়ার ভাঙতে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ করেছিল পুরসভা। ২০২৩ সালে তৎকালীন ক্ষমতাশালী মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিশেষ উদ্যোগে কার্যত গায়ের জোর দেখিয়ে সেই ক্লক টাওয়ার তৈরি হয়েছিল, যার সামনে মন্ত্রীর ছবিও জ্বলজ্বল করত। সেই সময় অসন্তোষের জল কলকাতা হাইকোর্টে গড়ালে আদালত সেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেও, তৎকালীন তৃণমূল কাউন্সিলরের উস্কানিতে কয়েকজন মহিলাকে সামনে রেখে আন্দোলন করিয়ে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে রাজ্যে সরকার বদলাতেই আইন নিজের পথে চলায় একে একে সমস্ত বেআইনি ও বিতর্কিত নির্মাণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই মেগা অ্যাকশনের পর গড়িয়া চত্বরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যদিও তৃণমূলের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।





