বাংলা পড়তে গিয়ে দাঁত ভেঙে যাওয়ার জোগাড়! শপথগ্রহণে এ কী কাণ্ড করলেন বায়রন বিশ্বাস?
বিধানসভায় বায়রন বিশ্বাসের নাস্তানাবুদ দশা দেখে হেসে খুন নেটপাড়া
Truth of Bengal: দ্বিতীয়বারের জন্য বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, তাই সংসদীয় রীতিনীতি তাঁর নখদর্পণে থাকারই কথা। কিন্তু বুধবার বিধানসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস যা করলেন, তাতে রীতিমতো লজ্জিত তাঁর দলের নেতা-কর্মীরাও। বাংলায় লেখা শপথবাক্য পাঠ করতে গিয়ে বারবার হোঁচট খেলেন তিনি, যা নিয়ে এখন তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া।
শুরুতেই তালগোল!
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বায়রন বিশ্বাস যখন শপথ নিতে আসেন, তখন তিনি উত্তেজনায় বা অন্য কোনও কারণে ভুল করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চেয়ারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর যখন শপথবাক্য পাঠ শুরু করেন, তখন শুরু হয় আসল বিভ্রাট। একাধিক বাংলা শব্দ উচ্চারণ করতে গিয়ে রীতিমতো বেগ পেতে হয় তাঁকে। বিশেষ করে ‘আনুগত্য’-র মতো শব্দ তিনি শত চেষ্টা করেও সঠিকভাবে বলতে পারেননি।
শিল্পপতির রাজনৈতিক কেরিয়ার
মুর্শিদাবাদের প্রখ্যাত বিড়ি শিল্পপতি বাবর আলির বড় ছেলে বায়রন। এককালে তাঁর বাবা সিপিএম করলেও, বায়রন রাজনীতিতে আসেন কয়েক বছর আগে। ২০২৩-এর উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে জিতেও তিন মাসের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও দল তাঁর ওপর ভরসা করেছিল এবং বিতর্কিত মন্তব্য সত্ত্বেও তিনি জয়ী হয়েছেন। কিন্তু এদিনের ঘটনায় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সাবলীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।
কটাক্ষের বন্যা নেটপাড়ায়
বায়রনের এই ভিডিও ভাইরাল হতেই কমেন্ট বক্সে উপহাসের বন্যা বয়ে গিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ লিখছেন, “যিনি সাধারণ বাংলা শব্দ পড়তে পারেন না, তিনি জনগণের দাবি বিধানসভায় কীভাবে তুলবেন?” আবার কেউ লিখেছেন, “ব্যবসায়িক বুদ্ধিতে শান দিলেও বাংলা পড়ার অভ্যাসটা বোধহয় ছেড়েই দিয়েছেন বিধায়ক মশাই।”
শপথের প্রথম দিনেই এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বায়রন বিশ্বাসের জন্য যেমন বিড়ম্বনার, তেমনই তাঁর দলের ভাবমূর্তিতেও বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



