রাজ্যের খবর

বাহিনীর ফতোয়ার জবাব! বৃদ্ধ ভোটারদের হাতে লুঙ্গি তুলে অভিনব প্রতিবাদ তৃণমূলের

‘ছোটবেলা থেকে লুঙ্গি পরেই অভ্যস্ত’! বাহিনীর নিষেধাজ্ঞায় অপমানিত বৃদ্ধ ভোটার

আত্মজিৎ চক্রবর্তী, বনগাঁ: ভোট মিটলেও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দিন উত্তর ২৪ পরগনার কুচলিয়া এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক ‘অদ্ভুত’ ফতোয়া ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। অভিযোগ, বেড়গুম ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৮৯ নম্বর বুথে লুঙ্গি পরে ভোট দিতে যাওয়া একাধিক বৃদ্ধ ভোটারকে বাধা দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই ঘটনায় রীতিমতো অপমানিত বোধ করেছেন স্থানীয় প্রবীণ নাগরিকরা। সেই ক্ষোভের আঁচেই এবার অভিনব প্রতিবাদে সামিল হলো তৃণমূল কংগ্রেস। যে বৃদ্ধ ভোটারদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তৃণমূল কর্মীরা নতুন লুঙ্গি উপহার দিয়ে প্রতিবাদ জানালেন।

ঠিক কী ঘটেছিল ওই দিন? স্থানীয় বাসিন্দা দোসোর আলি মণ্ডল জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই লুঙ্গি পরেই অভ্যস্ত। বহুবার এই পোশাকেই ভোট দিয়েছেন, কিন্তু এবারের অভিজ্ঞতা ছিল তিক্ত। তাঁর কথায়, “কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা আমাদের দেখে বাধা দেয় এবং বলে লুঙ্গি পরে ভোট দেওয়া যাবে না। দীর্ঘদিনের অভ্যস্ত পোশাকে ভোট দিতে গিয়ে এমন বাধার মুখে পড়তে হবে ভাবিনি।” দোসোর আলীর মতো বহু প্রবীণেরই একই অভিযোগ।

এই ঘটনার পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এলাকায় লুঙ্গি বিলি কর্মসূচি শুরু হয়। তৃণমূল কর্মী সুব্রত সরকার এই প্রতিবাদ প্রসঙ্গে বলেন, “লুঙ্গি আমাদের বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাক। এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিভাজন নেই। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বহু মানুষ এই পোশাকে অভ্যস্ত। নির্বাচন কমিশনের কোনও নির্দেশিকায় লেখা নেই যে লুঙ্গি পরে ভোট দেওয়া যাবে না। তবুও কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী এমন আচরণ করল? এটা ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা।”

তৃণমূলের এই কর্মসূচিকে স্থানীয় মানুষ সাধুবাদ জানালেও, রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। ভোটের সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে বিভিন্ন সময়ে নানা বিধিনিষেধ জারি করে বাহিনী, তবে ‘পোশাক’ নিয়ে এই ধরণের নাক গলানো নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা। নির্বাচন কমিশনের কোনও স্পষ্ট নিয়ম ছাড়াই বাহিনীর এই ‘স্বেচ্ছাচার’ কেন? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে কুচলিয়ার নির্বাচনী ময়দানে। লুঙ্গি নিয়ে এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। ভোটের ফলের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বাহিনীর এই আচরণ যে শাসকদলের হাতে প্রচারের আরও এক নতুন অস্ত্র তুলে দিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Related Articles