খেলা

‘পাওয়ার-প্লেতেই ম্যাচে হার’, চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে হেরে মুখ খুললেন হার্দিক পান্ডিয়া

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে চেন্নাই বড় সংগ্রহ গড়ে তোলে।

Truth Of Bengal:  চেন্নাই সুপার কিংস যেন বৃহস্পতিবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে পুরো ম্যাচটাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দিয়েছিল। ব্যাটিং-বোলিং সব বিভাগেই দাপট দেখিয়ে তারা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে হারায় ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। আইপিএলের ইতিহাসে রান ব্যবধানে এটাই মুম্বাইয়ের সবচেয়ে বড় হার। আর এই হার শুধু স্কোরবোর্ডে নয়, মানসিকভাবেও বড় ধাক্কা দিল মুম্বাই শিবিরকে।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে চেন্নাই বড় সংগ্রহ গড়ে তোলে। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়লেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন সঞ্জু স্যামসন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে অনবদ্য এক সেঞ্চুরি। ৫৪ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল একাধিক চার-ছয়ের ঝলক, আর তার দাপটেই চেন্নাই ২০৭ রান তোলে ৬ উইকেট হারিয়ে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে মুম্বাই। পাওয়ারপ্লেতেই কার্যত ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায় তাদের। মাত্র ২.৩ ওভারে স্কোরবোর্ডে দাঁড়ায় ১১ রান, আর পড়ে যায় ৩টি উইকেট। ব্যাট হাতে কেউই থিতু হতে পারেননি। শুরুতেই ফিরে যান একাধিক ব্যাটার, যার মধ্যে রয়েছেন কুইন্টন ডি কক ও নমন ধীর।

তিলক বর্মা এবং সূর্যকুমার যাদব কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তাঁদের ৭৩ রানের জুটি ভাঙতেই আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় চেন্নাই। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি মুম্বাই। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১০৪ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।

ম্যাচ শেষে মুম্বাই অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া সরাসরি বলেন, শুরুতেই উইকেট হারানোই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তাঁর কথায়, পাওয়ার-প্লেতে এমন ধাক্কা খেলে ম্যাচে ফেরা খুব কঠিন হয়ে যায়, আর তার দল সেটাই সামাল দিতে পারেনি।

পিচ নিয়ে ওঠা প্রশ্নেও তিনি কোনও অজুহাত দেননি। স্পষ্ট বলেন, উইকেট একই ছিল, পরিবর্তন হয়নি। চেন্নাই ভাল ব্যাট করেছে, তাই বড় স্কোর করেছে এটা মানতেই হবে।

বল হাতে কিছুটা লড়াই করেছিলেন অলরাউন্ডার আল্লাহ গজনফর। তিনি নেন ২টি উইকেট। অন্যদিকে চেন্নাইয়ের হয়ে স্পিনার আকিল হোসেন ছিলেন সবচেয়ে সফল, মাত্র ১৭ রান দিয়ে তুলে নেন ৪ উইকেট।

হার্দিক আরও বলেন, তাঁদের স্পিনাররাও ভাল বল করেছেন, কিন্তু সঞ্জুর অসাধারণ ইনিংসই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে। লক্ষ্য তাড়া করতে হলে শুরু থেকেই ভাল পাওয়ারপ্লে দরকার ছিল, যা হয়নি।

এখন প্লে-অফে জায়গা করে নিতে হলে মুম্বাইকে বাকি সাত ম্যাচের মধ্যে অন্তত ছয়টি জিততেই হবে। পরের ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের। দল পরিবর্তন হবে কি না এই প্রশ্নে হার্দিক জানান, দল বসে ঠিক করবে কীভাবে এগোনো যায়, হাতে সময় আছে, সেরা কম্বিনেশন খুঁজে বের করাই লক্ষ্য।