“পরাজয় নিশ্চিত জেনে লোডশেডিংয়ের ছক!” আসানসোলে নন্দীগ্রামের স্মৃতি উসকে বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা
নন্দীগ্রামের বিধানসভা ভোটের গণনার স্মৃতি উসকে দিয়ে তিনি জানান, এবার আসানসোলেও একই কৌশলে ভোট লুটের চেষ্টা করা হচ্ছে।
Truth of Bengal: নির্বাচন চলাকালীন আসানসোল দক্ষিণে উত্তেজনা ছড়াল বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন যে, পরাজয় নিশ্চিত জেনে রাজ্য সরকার পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং করার ছক কষছে। অগ্নিমিত্রার অভিযোগ, সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো করতে প্লাগ পয়েন্টের ভেতর কাগজ ঢুকিয়ে দেওয়া হতে পারে এবং ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় বোমাবাজি শুরু হয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামের বিধানসভা ভোটের গণনার স্মৃতি উসকে দিয়ে তিনি জানান, এবার আসানসোলেও একই কৌশলে ভোট লুটের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ভোট পরিদর্শনে বেরোনোর সময় পুলিশের সঙ্গেও বড়সড় বাদানুবাদে জড়ান এই বিজেপি প্রার্থী। রানিগঞ্জ পঞ্চায়েতের গ্রামীণ এলাকায় নিমচা ফাঁড়ির আইসি নাসরিন সুলতানা অগ্নিমিত্রার কনভয় আটকে দেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীর সঙ্গে ৩টির বেশি গাড়ি রাখা যাবে না। পাল্টা জবাবে অগ্নিমিত্রা বলেন যে, তিনি মাত্র দুটি গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন এবং বাকি গাড়িগুলি সংবাদমাধ্যমের। পুলিশের এই পদক্ষেপকে তিনি স্বাধীনভাবে চলাফেরায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা বলে অভিহিত করেন।
নন্দীগ্রামের বিধানসভা ভোটের গণনার স্মৃতি উসকে দিয়ে তিনি জানান, এবার আসানসোলেও একই কৌশলে ভোট লুটের চেষ্টা করা হচ্ছে pic.twitter.com/H8diSL5Fpr
— thetruthofbengal (@TruthofBengalX) April 23, 2026
পুলিশ এবং প্রার্থীর মধ্যে এই তর্কাতর্কি বেশ কিছুক্ষণ স্থায়ী হয়। আইসি নাসরিন সুলতানা স্পষ্ট করেন যে তিনি সংবাদমাধ্যমের কাজে কোনও হস্তক্ষেপ করছেন না, শুধুমাত্র প্রার্থীর গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করছেন। এর বিপরীতে অগ্নিমিত্রা অভিযোগ করেন যে পুলিশ নির্বাচন কমিশনের কোনও লিখিত নির্দেশ দেখাতে পারেনি। তিনি মন্তব্য করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের তৈরি নতুন সংবিধান অনুযায়ী সংবাদমাধ্যমকে আটকানোর চেষ্টা করছেন কারণ মানুষ আর বর্তমান সরকারকে পছন্দ করছে না।
শেষ পর্যন্ত অগ্নিমিত্রা পল দাবি করেন, সাধারণ মানুষ এবার পরিবর্তন এবং সঠিক পরিষেবার পক্ষে রায় দেবেন। তাঁর মতে, শাসকদল ভয় পেয়েই পুলিশকে দিয়ে বাধার সৃষ্টি করছে এবং লোডশেডিংয়ের মতো অনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ভোটকেন্দ্রে শান্তি বজায় রাখা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি কঠোর বার্তা দেন। আসানসোল দক্ষিণের এই পরিস্থিতি নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।






