পাক সেনাপ্রধানের আর্জি রাখলেন ট্রাম্প? ইরানের ওপর আপাতত হামলা স্থগিত করল আমেরিকা
ট্রাম্পের দাবি, পাকিস্তানের নেতৃত্বের সরাসরি আবেদনের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Truth of Bengal: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । এই সিদ্ধান্তের পিছনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ‘অনুরোধ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরান কোনও ‘সমন্বিত প্রস্তাব’ না দেওয়া পর্যন্ত এবং আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সংঘর্ষবিরতি বহাল থাকবে। ট্রাম্পের দাবি, পাকিস্তানের নেতৃত্বের সরাসরি আবেদনের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে বলেন, যেহেতু ইরান সরকার গুরুতরভাবে বিভক্ত এবং পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে আমাদের ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে, তাই তাদের প্রতিনিধি ও নেতারা একটি সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে না আসা পর্যন্ত আমি সংঘর্ষবিরতি বাড়াচ্ছি। তিনি আরও জানান, সামরিক অভিযান স্থগিত থাকলেও মার্কিন সেনা সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে। প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সূত্রের খবর, বুধবার ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাতে অংশ নিতে রাজি হয়নি তেহরান। ইরান জানিয়ে দেয়, চাপের মুখে কোনও আলোচনা হবে না। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কূটনৈতিকভাবে ‘চাপ সৃষ্টি করে সুবিধা নেওয়ার’ অভিযোগও তোলে তারা।
এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য পাকিস্তান ওয়াশিংটনের কাছে আবেদন জানায়। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই অনুরোধের ভিত্তিতেই সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, ইরানের বন্দরে জাহাজ চলাচলের উপর আমেরিকার অবরোধ অব্যাহত থাকবে। হরমুজ প্রণালীর আশপাশে এই অবরোধের জেরে বিশ্ব বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়ছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের মত।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার ইরান-ইজরায়েল শান্তি বৈঠক নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। প্রথম দফার আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবে সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে আলোচনার পথ কিছুটা খোলা থাকল বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। পাকিস্তানের ভূমিকা এবং ট্রাম্পের প্রকাশ্য প্রশংসা—দু’টি বিষয়ই এই মুহূর্তে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে বলে মত বিশ্লেষকদের।






