“আইপ্যাকের কাজ গেলে আমি চাকরি দেব!”, ভোটের মুখে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ মমতার
“অভিষেকের সঙ্গে কথা হয়ে গেছে!”, আইপ্যাক কর্মীদের জন্য তৃণমূলের দরজা খুলে দিলেন মমতা
Truth of Bengal: ভোটের মুখে ইডি-সিবিআইয়ের ‘অ্যাকশন’ নিয়ে যখন তপ্ত বাংলা, তখন আইপ্যাক (I-PAC) ইস্যুতে এক অবিশ্বাস্য চাল চাললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের ভোট কুশলী সংস্থা কাজ বন্ধ করছে, এমন জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে রবিবার তারকেশ্বরের সভা থেকে সরাসরি ‘চাকরি’র টোপ দিলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর সাফ কথা, এজেন্সির ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, প্রয়োজন হলে আইপ্যাকের সমস্ত কর্মীকে তৃণমূলের স্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ করবেন তিনি।
রবিবার সভা থেকে কার্যত হুঙ্কারের সুরে মমতা বলেন, “আমাদের এজেন্সিকে বলছে বাংলা ছেড়ে চলে যাও? কেন? তোমাদের তো ৫০টা আছে, আমাদের ক্ষমতা নেই তাই একটা আছে। শুনুন, ওদের ভয় দেখালে ওরা আমাদের দলে যোগ দেবে। আমি ওদের চাকরি দেব। একটা ছেলেকেও চাকরিহারা করব না। সকালে অভিষেকের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলে এসেছি।” রাজনৈতিক মহলের মতে, আইপ্যাকের ওপর কেন্দ্রীয় চাপ বাড়তেই তাদের ‘সংরক্ষণ’ দেওয়ার এই বার্তা দিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন তৃণমূল নেত্রী।
এদিন নিজের নিরাপত্তা ও ঘনিষ্ঠ মহলে কেন্দ্রীয় হানা নিয়ে রীতিমতো বিষ্ফোরক ছিলেন মমতা। দেবাশিস কুমারের বাড়িতে ১৬ ঘণ্টার তল্লাশি থেকে শুরু করে নিজের আয়কর উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা রক্ষীর বাড়িতে রেড, সব নিয়েই সরব হন তিনি। সরাসরি বিজেপিকে বিঁধে তাঁর প্রশ্ন, “তৃণমূল নেতাদের বাড়িতেই কেন রেড হবে? বিজেপির বাড়িতে হবে না কেন? গদ্দারের বাড়িতে হবে না কেন? তাঁর ভাই বা বাবার বাড়িতে কেন হানা দিচ্ছে না ইডি?” শুভেন্দু অধিকারীকে নাম না করে ‘গদ্দার’ কটাক্ষ করে তিনি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন।
নিজের জীবন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এদিন মমতা আরও একবার বলেন, “আমায় কি খুন করতে চান? হত্যা করতে চান? খুন করে যদি বাংলা পেতে পারেন, চেষ্টা করুন না!” এদিন তাঁর তিরে ছিল বামেরাও। মোদি সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, পচা সিপিএম-এর বুদ্ধিতেই এখন চলছে বিজেপি। এর আগে জানুয়ারি মাসেও আইপ্যাকের সল্টলেক অফিসে ইডি হানার সময় সশরীরে পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা। এবার আইপ্যাক কর্মীদের সরাসরি দলে নেওয়ার বার্তা দিয়ে বিজেপিকে এক নয়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিলেন মমতা।






