জ্বালানি সংকটে আকাশছোঁয়া মিষ্টির দাম, নববর্ষের সকালে পকেটে টান বাঙালির
এই বছর নববর্ষের মিষ্টি অন্য বারের মতো অতটা মিষ্টি লাগবে না মধ্যবিত্তের
Truth of Bengal: পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব ফেলছে বাঙালির প্রিয় উৎসব পয়লা বৈশাখের পাতেও। বৈরুত থেকে গাজা বা ইসরায়েল, যেখানেই সংঘাত হোক না কেন, তার আঁচ এসে লেগেছে এশিয়ার বাজারে। ফলে এই বছর নববর্ষের মিষ্টি অন্য বারের মতো অতটা মিষ্টি লাগবে না মধ্যবিত্তের।
কলকাতার নামকরা সব মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে জেলা মফস্বলের পাড়ার ছোট দোকানগুলোর চিত্রটা এখন একই রকম। সাধারণত পয়লা বৈশাখের দু’দিন আগে থেকেই মিষ্টির দাম এবং সাইজে পরিবর্তন আসে। প্রতিবার দেখা যায়, উৎসবের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে দাম বাড়ে, আর দাম বেশি হওয়ায় আকারের কিছুটা কমে যায়। বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং দোকানদারদের হালখাতার জন্য বিপুল সংখ্যক অর্ডার জমা পড়ে। কিন্তু এবার পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় হালখাতার আনন্দের স্বাদ যেন মিষ্টিতেও কিছুটা কমতে চলেছে।
মিষ্টি তৈরির মূল উপাদান চিনির দাম এবং দুধের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। কাঁচামালের এই অতিরিক্ত দামের জন্য গত এক মাসেই মিষ্টির দাম বেড়েছে প্রায় ৮ থেকে ১২ টাকা। গত দু’ দিনে সেই দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ। হালখাতার আনন্দ এবার মূল্যবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অস্থিরতার জেরে ফিকে হতে চলেছে। পরিস্থিতি এমনই যে অনেক ছোট এবং মাঝারি দোকান এবার হালখাতার অর্ডার নিতেই নারাজ হয়েছে। কারণ দাম বৃদ্ধি আর কাঁচামালের সংকটের কারণে তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে মিষ্টি সরবরাহ করতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে।
গত দু’দিনে দাম আরও বেড়ে যাওয়ার পরে পয়লা বৈশাখের আগে সাধারণ মানুষ তাদের পরিবারের জন্য মিষ্টি কিনতে গিয়ে পকেটে টান পড়ছে। মিষ্টির দোকানগুলো গত এক মাসের মধ্যে দুই বার তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। এই অতিরিক্ত দাম মিষ্টির আনন্দ উপভোগ করা কঠিন করে তুলে মধ্যবিত্তের জন্য। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা শুধুমাত্র মিষ্টির দামেই প্রভাব ফেলছে না, এর প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও পড়েছে। এই অস্থিরতার জেরে কাঁচামালের দামের ওঠানামা বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যাহত করছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে শুধু মিষ্টি নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দামই যে আরও বাড়বে, তা নিয়ে গভীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।






