কলকাতা

সিইও দফতরে রাজনৈতিক সংঘাতের জের, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ মিলেনিয়াম পার্ক

গঙ্গার দুই পারের নিত্যযাত্রীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বড়সড় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

Truth of Bengal: নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে রাজনৈতিক অশান্তির জেরে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। স্ট্র্যান্ড রোডে অবস্থিত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হল মিলেনিয়াম পার্ক। একই সঙ্গে বন্ধ রাখা হচ্ছে ব্যস্ততম শিপিং জেটিও। এর ফলে গঙ্গার দুই পারের নিত্যযাত্রীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বড়সড় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ মার্চ, যখন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিইও দপ্তরে গিয়ে অভিযোগ করেন যে, ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় বহিরাগতদের নাম ঢোকানো হচ্ছে। এর ঠিক পরদিন অর্থাৎ ৩১ মার্চ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সেখানে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, পূর্ব মেদিনীপুরের এক বিজেপি নেতা প্রচুর সংখ্যক ফর্ম নিয়ে দপ্তরে ঢোকার সময় শাসক দলের কর্মীরা তাঁকে বাধা দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, স্লোগান এবং বাইক ভাঙচুরের মতো চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বেআইনি জমায়েত ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে। এফআইআর-এর তালিকায় কলকাতা পুরসভার ৩২ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীর নাম রয়েছে। এই গোলমালের পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে কমিশন। অশান্তি এড়াতে স্ট্র্যান্ড রোড সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।

নিরাপত্তার খাতিরে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে মিলেনিয়াম পার্ক ও শিপিং জেটি বন্ধের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী এই জলপথ ব্যবহার করে হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে যাতায়াত করেন। জেটি বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং মিলেনিয়াম পার্ক জনসাধারণের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

Related Articles