দেশ

চাকরির বাজারের করুণ দশা: ৪ দশকেও বদলাল না ছবি, স্নাতক হয়েও কর্মহীন দেশের বিশাল যুবসমাজ

যথেষ্ট শিক্ষিত হয়েও তাঁরা চাকরি পাচ্ছেন না।

Truth of Bengal: কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে নানান রকম প্রচারের ঢাক বাজিয়ে দাবি করা হয় দেশে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান হচ্ছে। কিন্তু চাকরির বাজারের করুণ দশার বাস্তবচিত্র বদলালো না গত ৪ দশকেও। সম্প্রতি আজিম প্রেমজী বিশ্ববিদ্যালয়ের করা State of Working India 2026 শীর্ষক একটি সমীক্ষা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, দেশে ৪০% সদ্য স্নাতক তরুণী-তরুণী বেকার। যথেষ্ট শিক্ষিত হয়েও তাঁরা চাকরি পাচ্ছেন না। ওই সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েক দশক ধরে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দেশে ক্রমশ বাড়ছে। দেশে ১৫-২৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ৪০% বেকার। ২৫-২৯ বছর বয়সিদের মধ্যে দেশে বেকারের সংখ্যা ২০%। যথেষ্ট শিক্ষিত হয়েও ১৯৮৩ সালে দেশে মোট শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ছিল ৩৫%।

৪ দশক পর দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা একচুলও কমেনি। বরং বেড়ে হয়েছে ৪০%। এমনকি যাঁরা চাকরি কোনো রকমে জুটিয়েছেন তাঁদের কাছেও চাকরির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে বেকার যুবকদের মনে কতদিন চাকরি থাকবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মাত্র ৭% শিক্ষিত স্নাতক স্থায়ী চাকরি পেয়েছেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, পারিবারিক অর্থ সঙ্কটই শিক্ষা ও পরবর্তীতে কর্মসংস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নির্ধারণ করছে। অর্থাৎ পারিবারিক অর্থ সঙ্কটের কারণে দেশের কমবয়সি প্রজন্ম পছন্দের বিষয় নিয়ে উচ্চ শিক্ষা করতে পারছে না। ভবিষ্যতে চাকরি পাওয়ার সমস্যা হচ্ছে। ২০১৭ সালে আর্থিক সঙ্কটে ভুগেও কলেজে ভর্তি হয় দেশের ৩৮% যুবক-যুবতী।

২০২৩ সালে সংখ্যাটা কমে হয়েছে ৩৪%। আর্থিক সঙ্কটের কারণে অনেকেই ইচ্ছে থাকলেও পড়াশোনা মাঝপথে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ২০১৭ সালে অর্থর অভাবে মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন দেশের ৫৮% যুবক-যুবতী। ২০২৩ সালে সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২%। করোনা অতিমারির জেরে পরবর্তী সময় দেশে কৃষি ক্ষেত্রে কিছুটা কর্মসংস্থান বেড়েছে। ২০২১-২২ ও ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে দেশে ৮ কোটি ৩০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। এরমধ্যে ৪ কোটিই হয়েছে কৃষি ক্ষেত্রে।