দেশ

সাজা খেটে বেরিয়েই ছাদনাতলায়! খুনি আসামিকে জীবনসঙ্গী করলেন মহিলা পুলিশ

এই প্রেমের গল্পের সূত্রপাত সাতনা সেন্ট্রাল জেলের চার দেওয়ালের ভেতরেই।

Truth of Bengal: প্রেমের কোনো ব্যাকরণ নেই, আর সেই অমোঘ টানেই এবার বাঁধা পড়লেন মধ্যপ্রদেশের এক মহিলা পুলিশ আধিকারিক ও এক প্রাক্তন সাজাপ্রাপ্ত আসামী। সাতনা সেন্ট্রাল জেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট ফিরোজা খাতুন এবং ছত্তরপুরের বাসিন্দা ধর্মেন্দ্র সিংয়ের এই রূপকথার মতো বিয়ে এখন গোটা রাজ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। গত ৫ মে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে চার হাত এক হলো তাঁদের।

এই প্রেমের গল্পের সূত্রপাত সাতনা সেন্ট্রাল জেলের চার দেওয়ালের ভেতরেই। ২০০৭ সালে এক কাউন্সিলরকে খুন ও প্রমাণ লোপাটের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল ধর্মেন্দ্রর। জেলবন্দি থাকাকালীন তিনি ওয়ারেন্ট সংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজে পুলিশকে সাহায্য করতেন। সেই সময়ে ফিরোজা খাতুন ছিলেন ওই জেলের ওয়ারেন্ট ইন-চার্জ। কাজের সূত্রেই তাঁদের আলাপ এবং সময়ের সাথে তা গভীর প্রেমে রূপ নেয়। ১৪ বছর সাজা কাটিয়ে চার বছর আগে ধর্মেন্দ্র জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে তাঁদের এই মিলনের পথ মসৃণ ছিল না। ফিরোজার পরিবার একে তো ভিনধর্মী বিয়ে, তার ওপর পাত্র প্রাক্তন আসামী— এই কারণে প্রবল আপত্তি জানায়। এই জটিল পরিস্থিতিতে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাতনা জেলার সহ-সভাপতি রাজবাহাদুর মিশ্র। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফিরোজার কন্যাদানের দায়িত্ব নেন।

সম্পূর্ণ ধর্মীয় ও বৈদিক আচার মেনে সাতনায় এই বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে রাজবাহাদুর মিশ্র ছাড়াও বজরং দলের বেশ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত থেকে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ জানান। সমস্ত সামাজিক বাধা ও ধর্মীয় ভেদাভেদ পেরিয়ে এক পুলিশ আধিকারিক ও প্রাক্তন বন্দির এই মিলন এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল। জেলফেরত এক ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াইয়ে এই বিয়ে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Related Articles