সামুদ্রিক ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ৩৪০% বৃদ্ধি
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১০ম ‘ভারত মহাসাগর সংলাপ’-এ মূল বক্তব্য পেশ করে শ্রী সোনোয়াল ভারতের সামুদ্রিক খাতের প্রবৃদ্ধির কাহিনিতে ‘নারী শক্তি’-কে একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরেন।
Truth of Bengal: রাহুল চট্টোপাধ্যায়: ২০২০ সাল থেকে ভারতের সামুদ্রিক খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ৩৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। তিনি বলেন একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত , স্থিতিশীল ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তুলতে ভারত তার সকল অংশীদারদের সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুত। তিনি একটি অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত সামুদ্রিক কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১০ম ‘ভারত মহাসাগর সংলাপ’-এ মূল বক্তব্য পেশ করে শ্রী সোনোয়াল ভারতের সামুদ্রিক খাতের প্রবৃদ্ধির কাহিনিতে ‘নারী শক্তি’-কে একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরেন। ওই অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মরিশাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধনঞ্জয় রামফুল ও ইয়েমেনের প্রতিমন্ত্রী ওয়ালিদ মোহাম্মদ আল-কাদিমি।
‘সাগর মে সম্মান’-এর মতো বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা সামুদ্রিক খাতে নারীদের মর্যাদা, অন্তর্ভুক্তি এবং নেতৃত্বের সুযোগগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। ২০২০ সাল থেকে এই খাতে নারীদের অংশগ্রহণে প্রায় ৩৪০%-এর এক উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গতিশীল নেতৃত্বের অধীনে, সামুদ্রিক খাতের এই রূপান্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নারীদের অংশগ্রহণে এই বিপুল বৃদ্ধিকে ভারতের বৃহত্তর সামুদ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি অংশ হিসেবে তুলে ধরেন—যে দৃষ্টিভঙ্গি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সামাজিক ক্ষমতায়নকে একসূত্রে গ্রথিত করে। তিনি উল্লেখ করেন যে, নিরাপত্তা, সংযোগ, স্থায়িত্ব বৃদ্ধির প্রচেষ্টার পাশাপাশি ভারতের সামুদ্রিক কৌশলে ‘মানবিক উপাদান’ বা মানুষের বিষয়টিই কেন্দ্রীয় অবস্থানে রয়েছে।
‘ভারত মহাসাগর কেবল একটি ভৌগোলিক স্থানই নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক জীবনরেখা’বলে উল্লেখ করেন ।বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহ, বাণিজ্য এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের ক্ষেত্রে এর গুরুত্বের কারণে এখানে আরও জোরালো সহযোগিতা, সহনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলকতার প্রয়োজন। ভারতের সামুদ্রিক উদ্যোগগুলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদৃষ্টির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ‘সাগর’ অঞ্চলের সকলের জন্য নিরাপত্তা ও প্রবৃদ্ধি এবং ‘মহাসাগর’-এর মতো কাঠামোসমূহ, যার লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং সমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।২০২৫-২৭ মেয়াদের জন্য ‘ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন’ (আই ও আর এ)-এর সভাপতি হিসেবে ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ১০ম ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডায়ালগ’-এর মূল প্রতিপাদ্য হলো—’পরিবর্তনশীল বিশ্বে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল’। এই মঞ্চটি মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ এবং শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দকে একত্রিত করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সুনীল অর্থনীতি , দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক আলোচনার সুযোগ করে দেয়। আই ও আর এ-এর সভাপতি হিসেবে ভারতের দায়িত্বকালে, এই মঞ্চটি উদ্ভাবন, উন্মুক্ততা, সহনশীলতা, অভিযোজন ক্ষমতা-র ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। এক্ষেত্রে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে একটি অন্যতম প্রধান ও সর্বব্যাপী অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শ্রী সোনোয়াল এই অঞ্চলে ভারতের ‘নিট নিরাপত্তা প্রদানকারী’হিসেবে ভূমিকার কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন এবং মানবিক সহায়তা, সামুদ্রিক নজরদারি ও দুর্যোগ মোকাবিলায় ভারতের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কোনো একটি দেশের পক্ষে এককভাবে সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।তাই তিনি স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের ওপর ভিত্তি করে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং স্থিতিশীল ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকল অংশীদারদের সাথে কাজ করতে ভারত সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আই ও আর এ-এর অন্যতম প্রধান ‘ট্র্যাক ১.৫’ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ২০১৪ সালে কোচিতে যাত্রা শুরু করা ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডায়ালগ’ (আইওডি) আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দকে একত্রিত করে। আই ও আর এ-এর সদস্য রাষ্ট্র সংখ্যা ২৩ এবং এর ১২টি ‘ডায়ালগ পার্টনার’ বা সংলাপ সহযোগী রয়েছে। এই সংস্থাটি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে এবং সুনীল অর্থনীতির পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে একটি প্রধান ও সর্বব্যাপী অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সংলাপের ১০ম সংস্করণে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সুনীল অর্থনীতি, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক বিশেষায়িত অধিবেশনগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।






