দেশ

রান্নার হাতা-খুন্তি ছেড়ে সোজা থানা! আধসেদ্ধ মাংসের হাঁড়ি হাতে পুলিশের দ্বারে প্রৌঢ়

আজব এই কাণ্ডটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের তাদিপাত্রী টাউন এলাকায়।

Truth of Bengal: ঝোল ফুটছে, মশলার গন্ধও ম ম করছে— কিন্তু মাংস কিছুতেই সেদ্ধ হচ্ছে না! একবার নয়, দু’বার নয়, টানা ২০ বার চেষ্টা করেও খাসির মাংস নরম করতে না পেরে মেজাজ হারালেন অন্ধ্রপ্রদেশের এক প্রৌঢ়। শেষমেশ কড়াই ভর্তি আধসেদ্ধ মাংস নিয়েই সোজা হাজির হলেন থানায়। আজব এই কাণ্ডটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের তাদিপাত্রী টাউন এলাকায়।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদিপাত্রীর বাসিন্দা সোদালা হাজি ‘উগাদি’ উৎসবের জন্য বাজার থেকে খাসির মাথার মাংস (তালাকুরা) কিনে এনেছিলেন। বাড়িতে উৎসাহ নিয়ে রান্না শুরু করলেও বিপত্তি বাঁধে মাংস সেদ্ধ হওয়া নিয়ে। দীর্ঘক্ষণ আঁচে বসিয়ে রাখার পরেও মাংস শক্ত ও ছিবড়ে থেকে যায়। প্রৌঢ়ের দাবি, তিনি প্রায় ২০ বার বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। হতাশ হাজি এরপর রান্নার পাত্রটি হাতে নিয়েই সোজা তাদিপাত্রী টাউন থানায় গিয়ে হাজির হন মাংস বিক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে।

থানার সার্কেল ইনস্পেক্টর আনন্দ রাও সচরাচর চুরি-ছিনতাই বা মারপিটের অভিযোগ শুনে অভ্যস্ত, কিন্তু খাসির মাংস সেদ্ধ না হওয়ার এমন ‘নন-ভেজিটেরিয়ান’ অভিযোগ দেখে তিনিও থমকে যান। জনৈক হাজির দাবি ছিল, বিক্রেতা তাঁকে নিম্নমানের বা ত্রুটিপূর্ণ মাংস দিয়েছেন যা খাওয়া অসম্ভব। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে হেসেই উড়িয়ে দেয়নি, বরং হাজির অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে মাংস বিক্রেতাকে থানায় তলব করে।

অবশেষে পুলিশের মধ্যস্থতায় সমস্যার সমাধান হয়। বিক্রেতা স্বীকার করে নেন যে মাংসটিতে সমস্যা থাকতে পারে এবং তিনি ওই আধসেদ্ধ মাংসের বদলে সমপরিমাণ তাজা ও ভালো মানের খাসির মাংস দিতে রাজি হন। স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেড়া বা ছাগল অত্যন্ত বয়স্ক হলে তার মাংস সহজে সেদ্ধ হতে চায় না, এক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত নতুন মাংস পেয়ে শান্ত মনে বাড়ি ফিরেছেন ওই প্রৌঢ়।

Related Articles