জমির বিনিময়ে চাকরি মামলায় লালুর আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টের
লালুর পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, সিবিআইয়ের তদন্ত ও চার্জশিট আইনগতভাবে বৈধ নয়, কারণ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ধারা ১৭এ অনুযায়ী আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি।
Truth Of Bengal: ‘জমির বিনিময়ে রেলে চাকরি’ মামলায় বড় ধাক্কা খেলেন আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদব। তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের দায়ের করা এফআইআর বাতিলের আবেদন সোমবার খারিজ করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি রবীন্দ্র দুদেজা জানান, এফআইআর বাতিলের পক্ষে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। প্রসঙ্গত, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ, তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী, পুত্র তেজস্বী যাদব ও তেজপ্রতাপ যাদব এবং কন্যা মিসা ভারতী-সহ মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দিল্লির বিশেষ সিবিআই আদালতে চার্জ গঠন করা হয়। লালুর পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, সিবিআইয়ের তদন্ত ও চার্জশিট আইনগতভাবে বৈধ নয়, কারণ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ধারা ১৭এ অনুযায়ী আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে আদালত এই যুক্তি খারিজ করে দেয়।
অভিযোগ, ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত রেলমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে লালুপ্রসাদ রেলের গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে জমি নিয়ে তা তাঁর পরিবার বা ঘনিষ্ঠদের নামে লিখিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার তদন্তে নামে সিবিআই।
পরে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে ইডি-ও। সিবিআই ইতিমধ্যেই একাধিক চার্জশিট জমা দিয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে কীভাবে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে জমি নেওয়া হয়েছিল এবং কীভাবে এই দুর্নীতির বিস্তার ঘটে। মোট ৯৮ জন জীবিত অভিযুক্তের মধ্যে ৪৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের অনুমতি দিয়েছে আদালত। এই মামলায় গত বছর ইডি লালু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল, এবং তাঁরা হাজিরাও দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রায়ের ফলে বিহারের প্রাক্তন শাসক পরিবার তথা আরজেডি নেতৃত্বের উপর আইনি চাপ আরও বাড়ল।






