কলকাতা

সিঙ্গুরের অনুষ্ঠান করেই দিল্লি সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখ থেকে শুরু হতে পারে বিধানসভার অধিবেশন।

Truth Of Bengal: বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। এই ইস্যুতে বারবার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এসআইআর নিয়ে অশান্তির আবহেই দিল্লি সফরে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৮ তারিখ সিঙ্গুরে সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে উদ্বোধন করবেন তিনি। সেখান থেকে কলকাতায় ফিরেই দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর।

এর মাঝেই বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল ৩১ জানুয়ারি। কিন্তু তা পিছিয়ে যাচ্ছে। বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখ থেকে শুরু হতে পারে বিধানসভার অধিবেশন। পূর্ব নির্ধারিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল ২ তারিখ। ঐদিন অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশের কথা ছিল। কিন্তু বিধানসভার অধিবেশন পিছিয়ে যাওয়াতে ভোট অন একাউন্টস পেশ করার দিনক্ষণ পিছিয়ে যাচ্ছে। বিধানসভা সূত্রে খবর, অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট এ সভা সম্ভাবনা ৫ ফেব্রুয়ারির পর। সাধারণতন্ত্র দিবসে দিল্লির লোকভবনে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের আমন্ত্রণে চা-চক্রে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁর দিল্লি যাত্রার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মাসেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজধানী দিল্লি যাওয়ার কথা। তবে এই সফরে নির্বাচন কমিশনে তিনি যাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও ইঙ্গিত দেননি মুখ্যমন্ত্রী। দেশের ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক এই প্রক্রিয়াতে মানুষের যে হয়রানি হচ্ছে তা নিয়ে প্রথম থেকেই সরব হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কে পাঁচটি চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সময়সীমা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিষয়ে তুলে ধরেছেন পাঁচ চিঠিতে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সময়ের দিল্লি সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী পয়লা ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন। একদিকে কেন্দ্রীয় বাজেট অন্যদিকে এস আই আর পর্ব। তার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফর যথেষ্ট রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এস আই আর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন যে অপরিকল্পিত চিন্তাভাবনা করেছে এবং তার ফলে যে মানুষের হয়রানি হচ্ছে তা সর্বভারতীয় স্তরে তুলে ধরার উদ্দেশ্য রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, রাজ্যের একজন বৈধ ভোটার বাদ পড়লে দিল্লিতে আন্দোলন হবে। বিহারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারতীয় জনতা পার্টির কারচুপির অভিযোগ তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। পাশাপাশি কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন মহারাষ্ট্র হরিয়ানার নির্বাচনেও। এমন অবস্থায় তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য দিল্লি সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রতি মনে করা হচ্ছে।

Related Articles