রাজ্যের খবর

ভোট গণনার আগেই বারাসাতে উত্তেজনা! স্ট্রংরুমে হঠাৎ সিসিটিভি বন্ধের অভিযোগ

২৪ ঘণ্টা নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও, শনিবার সকালে সেই ব্যবস্থায় গলদ ধরা পড়ায় প্রশ্ন তুলেছেন শাসক শিবিরের প্রার্থী

Truth of Bengal: রাজ্যে দুই দফার বিধানসভা নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর এখন সকলের নজর আগামী ৪ মে-র ফলাফল ঘোষণার দিকে। তবে ভোটগণনার চূড়ান্ত লগ্নে পৌঁছানোর আগেই বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজের স্ট্রং-রুমে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই কলেজেই বারাসত, দেগঙ্গা, হাবড়া এবং অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম (EVM) জমা রাখা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশে কড়া নিরাপত্তার পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও, শনিবার সকালে সেই ব্যবস্থায় গলদ ধরা পড়ায় প্রশ্ন তুলেছেন শাসক শিবিরের প্রার্থী।

অশোকনগর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী অভিযোগ করেছেন, শনিবার সকালে বেশ কিছুক্ষণের জন্য স্ট্রং-রুমের সিসিটিভি আউটপুট মনিটর সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা বেজে ৫ মিনিট থেকে ৮টা ২২ মিনিট পর্যন্ত কোনো ফুটেজ দেখা যায়নি। ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই তিনি বারাসত কলেজের গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যান। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি তৎক্ষণাৎ অশোকনগরের রিটার্নিং অফিসার, জেলাশাসক (DM), অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM) এবং নির্বাচন ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

নারায়ণ গোস্বামী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন এবং অবজার্ভার জানিয়েছেন যে আগামী দু’ঘণ্টার মধ্যে এই যান্ত্রিক গোলযোগের কারণ খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, শুক্রবারই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে স্ট্রং-রুমের নিরাপত্তা বা নজরদারিতে সামান্যতম ত্রুটি দেখা দিলে তিনি বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। শনিবারের ঘটনার পর তিনি সাফ জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি ‘সন্তোষজনক উত্তর’ না মেলে, তবে তিনি পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যদিও জানানো হয়েছে যে স্ট্রং-রুমগুলি কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় মোড়া এবং সিসিটিভি-র মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। কিন্তু গণনা কেন্দ্রের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় এভাবে মনিটর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিরোধীদের মনে যেমন আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে, তেমনই প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন দেখার, কমিশনের পক্ষ থেকে এই ১৭ মিনিটের বিভ্রাট নিয়ে কী রিপোর্ট পেশ করা হয়।

Related Articles