রাজ্যের খবর

‘এবার আরও বেশি আসনে জিতবে তৃণমূল!’, কোন অভিজ্ঞতা থেকে এমন দাবি করলেন মমতা?

সোমবার নদিয়ার এই জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন, ২০২৬ সালে দিল্লির গদি হারাবে বিজেপিই।

Truth of Bengal: শান্তিপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে একদিকে যেমন বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেমনই শাড়ির ডিজাইন থেকে নিজের খাদ্যাভ্যাস- একান্ত ব্যক্তিগত নানা কথা ভাগ করে নিলেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। সোমবার নদিয়ার এই জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন, ২০২৬ সালে দিল্লির গদি হারাবে বিজেপিই। সেই সঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং উচ্ছেদের ভীতি উড়িয়ে দিয়ে আশ্বস্ত করলেন আমজনতাকে।

বিজেপির নির্বাচনী রণকৌশলকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘‘এরা প্ল্যান করেছে, সকাল থেকে ছড়িয়ে দেবে ‘বিজেপি জিতছে, বিজেপি জিতছে’। আসলে নিজেদের জায়গাগুলোয় আগে কাউন্ট করবে। কিচ্ছু ভাববেন না। আমি মানুষের চোখমুখ যদি বুঝে থাকি, এ বার আরও বেশি সিট পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করবে।’’ ধর্মীয় মেরুকরণ নিয়েও কড়া বার্তা দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘ধর্ম আমাদের শেখাতে এসো না। তপোবনে আগেই আমাদের ঋষিরা শিখিয়ে গিয়েছেন ধর্ম কী। রাধাকৃষ্ণের রাসলীলা, চৈতন্যদেবের শান্তির গান আমাদের ধর্ম।’’

এদিন বক্তৃতার মাঝে উঠে আসে পারিবারিক আবদার ও শান্তিপুরের শাড়ির প্রসঙ্গ। মমতা হাসিমুখে জানান, ‘‘আমি শান্তিপুরে মিটিংয়ে এসেছি শুনে অভিষেকের মা বলেছে, ‘আমার জন্য দুটো শাড়ি এনো’। আমি কি এখন বাজারে যাব নাকি! আসলে ও মজা করছে। সোনাদানা চায় না, নববর্ষের আগে দুটো শাড়ি তো চাইতেই পারে বাড়ির বউ।’’ শান্তিপুরের তাঁতিদের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি যে শাড়িটা আজ পরে এসেছি, এটা শান্তিপুরের। আমি নিজের ডিজ়াইন করা শাড়ি পরি। অনেকে নকলও করে, আমার বেশ ভাল লাগে।’’

দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষত এবং বর্তমান জীবনযাত্রার এক টুকরো ছবিও ফুটে ওঠে তাঁর কথায়। ১৯৯০ সালে হাজরা মোড়ে আক্রান্ত হওয়ার স্মৃতি চারণা করে মমতা বলেন, ‘‘১৯৯০ সালে মার খাওয়ার পরে রান্নায় একফোঁটা ঝাল থাকলে খেতে পারি না, ঘুমোতে পারি না ঠিক করে। এখন ১৫ দিন বাইরে বাইরে, হোটেলে থাকতে হয়। ওই চিঁড়ে-মুড়ি, কোনও দিন একটা ডিমসিদ্ধ, এই সব খেয়েই দিন চলে যাচ্ছে।’’

সবশেষে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ নিয়ে তিনি জানান, লড়াই করে ২৫ লক্ষ মানুষের নাম তালিকায় ঢোকানো গিয়েছে, বাকিদের ক্ষেত্রেও কাজ চলছে। তাঁর অভয়বাণী, ‘‘কাউকে বাংলা থেকে উচ্ছেদ হতে দেব না। কেউ আত্মহত্যা করবেন না। বিজেপি আপনার খাবার, পোশাক, ভোটাধিকার কাড়বে। ২০২৬ সালে ওরা নিজেরাই ক্ষমতায় থাকবে না, আমাদের ভয় দেখাচ্ছে কী!’’

Related Articles