খেলা

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে জিম্বাবোয়েকে হারিয়ে জয় পাকিস্তানের

পাকিস্তান যদি ২৫.২ ওভারের আগেই ম্যাচ জিতে যেত, তা হলে গ্রুপ থেকে জিম্বাবোয়ের বদলে স্কটল্যান্ড সুপার সিক্সে উঠত।

Truth Of Bengal: ক্রিকেট মাঠে শুধু ব্যাট-বল নয়, মাথার খেলারও যে কতটা গুরুত্ব, তা আবার প্রমাণ করল পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দল। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের রান তাড়া করার ধীর গতি প্রথমে অনেককেই বিভ্রান্ত করেছিল। প্রশ্ন উঠেছিল—সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে এত দেরি কেন? পরে অবশ্য পরিষ্কার হয়ে যায়, সবটাই ছিল ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা।হারারেতে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ১৪ ওভারে ৮৪ রান তুলে নেয়। তখন বাকি ছিল ৩৬ ওভারে মাত্র ৪৫ রান। অর্থাৎ, জয়ের জন্য ওভারপ্রতি দুই রানেরও কম প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেখানেই আচমকা গতি কমায় পাকিস্তান। পরের ৪৫ রান তুলতে নেয় আরও ১২.২ ওভার। শেষ পর্যন্ত ২৬.২ ওভারে ৮ উইকেটে ম্যাচ জেতে তারা।

এই সময় উইকেটে ছিলেন সমীর মিনহাস এবং আহমেদ হোসেন। তাঁদের ব্যাটিংয়ের ৮৯ বলের একটি দীর্ঘ সময়ে কোনও বাউন্ডারিও মারেননি দু’জন। লক্ষ্য ছিল শুধু ম্যাচ জেতা নয়, ঠিক সময় দেখে ম্যাচ জেতা।এর নেপথ্যে ছিল সুপার সিক্সের হিসেব। পাকিস্তান যদি ২৫.২ ওভারের আগেই ম্যাচ জিতে যেত, তা হলে গ্রুপ থেকে জিম্বাবোয়ের বদলে স্কটল্যান্ড সুপার সিক্সে উঠত। কিন্তু ইচ্ছাকৃত ভাবে রান তাড়ার গতি কমিয়ে পাকিস্তান নিশ্চিত করে, যাতে জিম্বাবোয়ে নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে পরের রাউন্ডে যায় এবং স্কটল্যান্ড টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, সুপার সিক্সে গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট ও নেট রান রেট বহাল থাকে, তবে শুধুমাত্র সেই দলগুলির বিপক্ষে পাওয়া ফলাফলই যোগ হয়, যারা নিজেরাও সুপার সিক্সে পৌঁছয়। যে দলগুলি ছিটকে যায়, তাদের বিরুদ্ধে পাওয়া পয়েন্ট ও নেট রান রেট ধরা হয় না।এই হিসেবেই লাভ দেখেছে পাকিস্তান। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে তারা জিতেছিল ৪১ বল বাকি থাকতে, আর জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে জিতেছে ১৪২ বল বাকি থাকতে। অর্থাৎ জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে জয়ের ব্যবধান অনেক বড়। ফলে স্কটল্যান্ডের বদলে জিম্বাবোয়ে সুপার সিক্সে যাওয়ায় পাকিস্তান সঙ্গে নিয়ে যেতে পারছে অনেক ভাল নেট রান রেট।