মানুষের জায়গা নিচ্ছে এআই? আমাজনের গণছাঁটাইয়ের নেপথ্যে কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাড়বাড়ন্ত?
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রায় ৩০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সংস্থাটি।
Truth of Bengal: নতুন বছরের শুরুতেই বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ফের দুর্যোগের ঘনঘটা। ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন বড়সড় কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহ থেকেই এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বিশেষ করে আমাজন ওয়েব সার্ভিসেস, প্রাইম ভিডিও, রিটেল এবং হিউম্যান রিসোর্স বা মানবসম্পদ বিভাগ থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রায় ৩০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সংস্থাটি। এর আগে গত বছরের অক্টোবর মাসেই ১৪ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছিল। আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে নতুন করে এই প্রক্রিয়া কার্যকর হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। আমাজনের এই ধারাবাহিক কর্মী সংকোচনের নীতি আইটি পেশাদারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে প্রায় ২৭ হাজার এবং ২০২৩ সালে এক ধাক্কায় ৩০ হাজার কর্মীকে বসিয়ে দিয়েছিল আমাজন। করোনা অতিমারির সময় অনলাইন কেনাকাটার জোয়ার সামাল দিতে সংস্থাটি প্রচুর নতুন কর্মী নিয়োগ করেছিল। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে সেই বিশাল কর্মী বাহিনীকে এখন বাড়তি বোঝা হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ। মূলত খরচ কমাতেই এই কঠিন পথে হাঁটছে তারা।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই গণছাঁটাইয়ের নেপথ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব। জানা গিয়েছে, আমাজন প্রধান জেফ বেজোস বর্তমানে এআই গবেষণায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছেন। মানুষের বদলে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়াতেই সম্ভবত এই কর্মী ছাঁটাই। শুধু আমাজন নয়, ফ্লিপকার্ট থেকে শুরু করে ভারতের বৃহত্তম আইটি সংস্থা টিসিএস-ও গত কয়েক বছরে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে। ফলে বর্তমান কর্মসংস্থানের বাজারে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের টিকে থাকাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





