প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর অবরোধ উঠল বেলডাঙায়, জখম অন্তত ১২ জন
শুক্রবার সকাল থেকে উত্তেজিত জনতা রেললাইন এবং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে।
Truth Of Bengal: মুর্শিদাবাদে রেলপথ এবং সড়কপথে যোগাযোগ আপাতত স্বাভাবিক হয়েছে, পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার পর। শুক্রবার সকালে কলকাতাগামী একটি এবং লালগোলাগামী দুটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশন থেকে ছেড়ে গেছে। ধীরে ধীরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক হচ্ছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে থাকার পর সাধারণ মানুষ গন্তব্যের উদ্দেশে এগোচ্ছেন।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় ভিন্রাজ্যে কাজে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের রহস্যমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। শুক্রবার সকাল থেকে উত্তেজিত জনতা রেললাইন এবং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। তিন-চার ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের ফলে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ ও কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তবে এ সুযোগেও বেলডাঙার রাস্তায় ভাঙচুর থামেনি। ট্রাফিক কিয়স্ক ভাঙা হয়েছে, পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক রয়েছেন, একজন চিকিৎসাধীন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগে সকলকে শান্ত থাকার আবেদন জানান। তিনি বলেন, “বেলডাঙায় কাদের প্ররোচনা আছে, তা সবাই জানেন। কারও প্ররোচনায় পা দেবেন না। শান্তি বজায় রাখুন। সাংবাদিকদের মারধর করবেন না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হওয়া অত্যাচারের পেছনে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্সি জড়িত।
পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর ধীরে ধীরে ট্রেন ও বাস চলাচল শুরু হয়। পুলিশের বরাতে জানা গেছে, মৃত শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যু তদন্তাধীন, এবং পরিবারকে সুবিচার দেওয়া হবে।
অধীররঞ্জন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, “ভিন্রাজ্যে কর্মরত শ্রমিকদের বারবার প্রাণ হারানো প্রশ্নের মুখে। রাজ্য সরকার কেন এখানকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছে না? এই মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।” জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ূন কবীরও বলেন, “মুর্শিদাবাদের মানুষ কাজের খোঁজে বাইরে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”



