লক্ষ্য ২০২৬, বারুইপুর থেকে ‘রণসংকল্প’ অভিষেকের! দক্ষিণ ২৪ পরগনার কর্মীদের বেঁধে দিলেন কড়া টার্গেট
সভার শুরুতেই অভিষেক মঞ্চে হাঁটু গেড়ে বসে সাধারণ মানুষকে প্রণাম জানিয়ে জনজোয়ারের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
Truth of Bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি ‘আবার জিতবে বাংলা’-র শুভ সূচনা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে একটি বিশাল ‘রণসংকল্প সভা’র মাধ্যমে এই অভিযানের ডাক দেন তিনি। বারুইপুরের সাগরসংঘ মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় ডায়মন্ড হারবার, যাদবপুর এবং সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলার কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতেই অভিষেক মঞ্চে হাঁটু গেড়ে বসে সাধারণ মানুষকে প্রণাম জানিয়ে জনজোয়ারের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
কেন বারুইপুর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু হলো, সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন অভিষেক। তিনি বারুইপুরকে তাঁর ‘কর্মভূমি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, যেমন কোনো শুভ কাজের আগে মানুষ বাবা-মায়ের আশীর্বাদ নেয়, তেমনই রাজনৈতিক লড়াইয়ের নতুন অধ্যায় শুরু করার আগে তিনি তাঁর কর্মভূমির মানুষের স্নেহ ও সমর্থন পাথেয় করতে চেয়েছেন। তাঁর মতে, কালীঘাট যদি তাঁর জন্মস্থান হয়, তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনাই তাঁকে রাজনৈতিক পরিচিতি দিয়েছে। তাই এখান থেকেই ছাব্বিশের লড়াইয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন তিনি। এদিনের সভা থেকে দলীয় কর্মীদের কড়া টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি আসনের মধ্যে ৩১টিতেই জোড়াফুল ফোটাতে হবে। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই জেলার ৩০টি আসনে তৃণমূল জিতলেও ভাঙড় আসনটি আইএসএফ-এর দখলে গিয়েছিল। অভিষেক এবার কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করার আহ্বান জানিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ভাঙড়সহ জেলার প্রতিটি প্রান্তে আধিপত্য কায়েম করাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।
বিজেপি বা বিরোধী শিবিরকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের ‘ভোকাল টনিক’ দেন এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন। বারুইপুরের এই রণসংকল্প সভা আদতে তৃণমূলের জন্য একটি বড় শক্তিবৃদ্ধির মহড়া হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। জেলার সবকটি আসন জয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে অভিষেক যে নতুন উদ্যমে ময়দানে নামলেন, তা আজকের সভার জনউচ্ছ্বাস থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।






