দেশ

India Pakistan nuclear list: সীমান্তে উত্তেজনা থাকলেও অটুট প্রথা! বছরের শুরুতেই পরমাণু কেন্দ্রের তালিকা বদল ভারত-পাকের

১৯৮৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অধীনে প্রতি বছর ১ জানুয়ারি এই তালিকা বিনিময় করা বাধ্যতামূলক।

Truth of Bengal: নতুন বছরের প্রথম দিনেই দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ঐতিহ্য বজায় রেখে পারমাণবিক স্থাপনার তালিকা বিনিময় করল ভারত ও পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার দুই দেশের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের আদান-প্রদান সম্পন্ন হয়। ১৯৮৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অধীনে প্রতি বছর ১ জানুয়ারি এই তালিকা বিনিময় করা বাধ্যতামূলক। ১৯৯২ সালে প্রথমবার এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর এটি ছিল টানা ৩৪তম বিনিময়। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতেও কোনো দেশ যেন একে অপরের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা না চালায় তা নিশ্চিত করা।

পারমাণবিক তথ্যের পাশাপাশি এদিন দুই দেশ একে অপরের হেফাজতে থাকা বেসামরিক বন্দী ও মৎস্যজীবীদের তালিকাও বিনিময় করেছে। গত বছরের মে মাসে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া সংক্ষিপ্ত সামরিক উত্তেজনার পর এই প্রথম বন্দীদের তালিকা আদান-প্রদান করা হলো। ২০০৮ সালের কনস্যুলার অ্যাক্সেস চুক্তির আওতায় কূটনৈতিক মাধ্যমে এই তালিকা বিনিময় হয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে ভারতের হেফাজতে ৩৯১ জন বেসামরিক পাকিস্তানি বন্দী এবং ৩৩ জন মৎস্যজীবী রয়েছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সে দেশের কারাগারে ৫৮ জন বেসামরিক ভারতীয় বন্দী এবং ১৯৯ জন মৎস্যজীবী রয়েছেন।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের কাছে সে দেশের কারাগারে থাকা ভারতীয় বেসামরিক বন্দী, মৎস্যজীবী এবং নিঁখোজ প্রতিরক্ষা কর্মীদের দ্রুত মুক্তি ও প্রত্যাবর্তনের আবেদন জানানো হয়েছে। বিশেষত ১৬৭ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী ও বেসামরিক বন্দী, যাদের সাজার মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে, তাদের দ্রুত ভারতে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি এমন ৩৫ জন বন্দী যাদের এখনও কনস্যুলার অ্যাক্সেস দেওয়া হয়নি, তাদের জন্য অবিলম্বে আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তার সুযোগ দেওয়ার দাবি তুলেছে নয়াদিল্লি।

বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের জেলে থাকা ভারতীয় বন্দীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ২,৬৬১ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী এবং ৭১ জন বেসামরিক ভারতীয় নাগরিককে পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগামে হওয়া জঙ্গি হামলার পাল্টা জবাব দিতে মে মাসে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালিয়েছিল, যার ফলে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। সেই উত্তেজনার আবহেও এই বার্ষিক তথ্য বিনিময় কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles