রাজ্যের খবর

Tamanna Khatun: সন্তান হারানোর শোকে আত্মহত্যার চেষ্টা নদিয়ার তামান্নার মায়ের

পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

Truth of Bengal: সন্তান হারানোর যন্ত্রণার কাছে হার মানল বেঁচে থাকার ইচ্ছা। নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের মোলান্দি গ্রামের বাসিন্দা সাবিনা খাতুন নিজের মেয়ের অকাল মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন। মঙ্গলবার বাড়িতেই বিষণ্ণতা থেকে প্রচুর পরিমাণে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই শোকার্ত মা।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২৩ জুন। কালীনগর উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এলাকা। সেই দুপুরে আচমকা বোমাবাজির কবলে পড়ে মৃত্যু হয় মাত্র ৯ বছর বয়সী নাবালিকা তামান্না খাতুনের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন। পুলিশও সক্রিয় হয়ে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের পাকড়াও করে। এখনও পর্যন্ত ওই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে প্রশাসনের তৎপরতা বা আইনি পদক্ষেপ, কোনো কিছুই মেয়ের অভাব পূরণ করতে পারেনি মা সাবিনার কাছে। স্থানীয় বিধায়ক আলিফা আহমেদ এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান যে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিলেও একজন মায়ের মন হারানো সন্তানের শোক কাটিয়ে ওঠা কঠিন। এদিকে সঠিক তদন্ত এবং পূর্ণ সুবিচারের আশায় গত জুলাই মাসে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তামান্নার পরিবার। সিবিআই তদন্তের দাবিও জানিয়েছিলেন তাঁরা।

আইনি প্রক্রিয়া চললেও সাত মাস ধরে বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন সাবিনা। প্রতিবেশীদের দাবি, মেয়ের স্মৃতি প্রতি মুহূর্তে তাঁকে তাড়া করে বেড়াত এবং তিনি গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই অবসাদ থেকেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Related Articles